সাপে নাজেহাল মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চল

বর্ষায় মেহেরপুরের গ্রামগঞ্জে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। প্রায় প্রতিদিনই ঘরবাড়ি, উঠান বা ফসলের মাঠে মিলছে সাপের দেখা। বিষধর সাপের কামড়ে সম্প্রতি স্কুলছাত্রীসহ কয়েক জনের মৃত্যুর ঘটনায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
সাপের কামড়ে কেউ যাচ্ছেন ওঝার কাছে, কেউ অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন নিচ্ছেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বলছেন, এমন ঘটলে দ্রুত যেতে হবে হাসপাতালে।
গত ১১ জুলাই গভীর রাতে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে নিজ ঘরে সাপের ছোবলে মারা যায় জুঁই (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। গেল তিনদিনে সাহারবাটী গ্রামের আসমা খাতুন, সাদানা খাতুন, জুনায়েদ হোসেন, সেতু, তামিমসহ অন্তত ১০ জনকে সাপে কামড় দেয়।
তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস নেই বলে আক্রান্তরা গেছেন ওঝার কাছে।
সম্প্রতি গাংনীর ভাটপাড়া গ্রামের এক কৃষকের রান্নাঘরের গর্তে চারটি বিষধর গোখরা সাপ মারা হয়। ওই গর্তে ১০টি ডিম ও ৫টি সাপের বাচ্চা মারা হয়। গতকাল গাংনীর দেবীপুর এলাকাতেও স্থানীয়রা পিটিয়ে মারে একটি সাপ।
সাহারবাটী গ্রামের হাফিজুর রহমান বললেন, ‘জুই নামের মেয়েটি মারা যাওয়ার পর থেকে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে বাইরে বের হলে হাতে লাইট নিয়ে চলাফেরা করি। ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখছি, তবুও ভয় কাটছে না। প্রায়ই কোনো না কোনো বাড়িতে সাপ দেখা যাচ্ছে বলে খবর পাওয়ায় সাপের আতঙ্ক বাড়ছে।’
‘আমাদের এলাকায় আগে মাঝেমধ্যে সাপ দেখা যায়। তবে, বর্ষায় সাপের উপদ্রব বাড়লেও সাপ নিধনের কোনো ব্যবস্থা নেই’- বলছিলেন একই গ্রামের তৈয়ব আলী।
নওপাড়া গ্রামের ওঝাঁ আবু বক্করের ভাষ্য, ‘সাপে কামড় দেয়া অনেক মানুষ আমাদের কাছে আসছে। আমরা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিই।’
স্থানীয়ভাবে সাপ ধরার কাজে যুক্ত রিয়াজুল ইসলামের দাবি, চলতি বছর তিনি প্রায় সাড়ে ৩০০টি পদ্মগোখরা সাপ ধরেছেন। গত এক সপ্তাহেই ধরেছেন প্রায় ১০০টি সাপ।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানালেন, সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট হয়। রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে থাকে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়া গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বললেন, জেলার তিনটি সরকারি হাসপাতালেই সাপে কাটার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁকে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।




