সিজারের পর পেটে গজ, নার্স বিথীকে বাঁচানো গেল না

নার্স বিথী আক্তার
আমি বাঁচতে চাই, আমার সন্তানের জন্য বাঁচতে চাই’, মাত্র দুই-তিন দিন আগে আকুল আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে এই কথাগুলো লিখেছিলেন বিথী আক্তার। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া সেই ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।
বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।
বিথীর স্বজনরা জানান, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ। ওই অস্ত্রোপচারের পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
বিথীর স্বামী জানিয়েছেন, পেটের নাড়িতে তীব্র জটিলতা দেখা দেওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বিথী। তাকে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে ৬১ কেজি ওজনের সুস্থ বিথীর ওজন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে।
নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও তিনি ছিলেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বললেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি, অত্যন্ত দুঃখজনক। এরই মধ্যে বিথীর সন্তানকে দেখতে জেলা প্রশাসক গেছেন। আমিও তার বাড়িতে দুইবার গিয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’



