উখিয়া
আধিপত্যের লড়াইয়ে আবারও গুলি, রোহিঙ্গা যুবক আহত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজারের উখিয়ায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর গুলিতে সাবের (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন।
আজ রবিবার সন্ধ্যার দিকে উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ব্লক-এইচ-৪৫ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সাবের একই আশ্রয়শিবিরের ব্লক-জি-২৬ এর বাসিন্দা মোহাম্মদ আইয়ুব আলীর ছেলে। গুলির পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংয়ে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী জাফরের নেতৃত্বে কয়েকজন অস্ত্রধারী সাবেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। জাফর ১০ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-এইচ-৪২ এর হেড মাঝি তোহার সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। জাফরের বাবার নাম শুক্কুর।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি চালিয়েছে। এতে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি নিশ্চিত করেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। ঘটনার পর ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
ক্যাম্পের বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের।
সাবেরকে গুলি করার ঘটনাতেও আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাত্র এক দিন আগে শুক্রবার দুপুরে উখিয়ার ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশী এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওবাইদুল হক লালু গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত লালু বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরপর দুই দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলির ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবাধ তৎপরতা নিয়ে। অস্ত্রধারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. মোস্তাফা।







