ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক ও স্ট্যাম্পে সই, গ্রেপ্তার ২

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির অফিসে এমডি আবদুল আজিজকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে চেক ও স্ট্যাম্পে জোর করে সই করাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান— ভিডিও থেকে নেওয়া
বরিশালে একটি ডেভেলপার কোম্পানির অফিসে ঢুকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নগরীর অগ্রণী হাউজিং কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় ঘটেছে এ ঘটনা। আজ রবিবার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির এমডি আবদুল আজিজ হাওলাদার তার কক্ষে বসে চা পান করছিলেন। আকস্মিক চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি কক্ষে ঢোকেন। এ সময় সবাইকে বের করে দিয়ে কালো জামা পরা এক ব্যক্তি আজিজ হাওলাদারকে জাপটে ধরেন এবং তাকে চড়থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেকে ও দুটি স্ট্যাম্পে তার সই নেওয়া হয়।
কালো জামা পরা মোস্তাফিজুর রহমান (লিটু)। তিনি নগরের কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার কোনো পদ–পদবি নেই। তার আরেক ভাই মাহবুবুর রহমান (পিন্টু) বরিশাল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।
নির্যাতনের শিকার মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তিনি আজ এ ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি বললেন, ‘হামলার সময় মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মালেক দূরানী ছিলেন। তারা পূর্বপরিচিত এবং ব্যবসায়িক অংশীদার। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৩ সালে তারা সব শেয়ার বিক্রি করে দেনা-পাওনা বুঝে নেন। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আব্দুল মালেক দূরানী অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’
তিনি আরও বললেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় রাতে বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে ঢুকে আমাকে মারধর করেন এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। এ সময় জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে তারা থানায় গিয়ে টাকা পাওয়ার অভিযোগ দেন, যার ভিত্তিতে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিকে মারধরের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন।
মামলার আইনজীবী মো. আবদুল রশীদ খান জানালেন, বাদীকে মারধর করে ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ৬টা স্ট্যাম্পে লিখিত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখানো মাত্র আদালত এফআইআর দিয়ে দিয়েছে।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দাবি করেন, পাওনা টাকা না পাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের পাওনা টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা পারিবারিক কষ্টে আছি। ফলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘যুবদলের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি দলের কোনো কমিটিতে থাকা তো দূরের কথা, তিনি কোনো দিন কোনো মিটিং-মিছিলেও আসেননি।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদের মন্তব্য, ‘বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’





