একই স্কুলে আবারও ‘ঝাঁজালো গন্ধে’ অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী

হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও অসুস্থ ২১ শিক্ষার্থী। ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর হাতিয়ায় একই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আবারও অসুস্থ পড়েছে ২১ শিক্ষার্থী। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একজনের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল আরও ১৬ শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১ শিক্ষার্থীকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে সুমাইয়া (১৪), রিহান (১২), সাকিব (১২), ছায়েম (১৩), আরক দেবী (১৪), আরাফাত হোসেন (১৪), লাইজু (১৩), ঐশী (১৩) ও ফরিদা আক্তার (১৩) রয়েছে। তাদের বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী এলাকায়।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র আশ্চার্য জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের একজন স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় জানিয়েছেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। আরও পর্যবেক্ষণের পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানা গেছে। এর সঙ্গে পরিবেশগত বা মানসিক কোনো বিষয় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও আড্ডা বাড়ে। এ সময় বিদ্যালয়ের আশপাশে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ঘটে।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে একই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ১৬ শিক্ষার্থী। পরে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনার একদিন পর ৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, বিদ্যালয়ের পাশের ধানক্ষেতে স্প্রে করা এসিমিক্স কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্প শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
আজ তিনি জানালেন, এখন সব শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন বারবার ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি এখানে ফৌজদারি কোনো অপরাধ ঘটছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।




