সার ডিলার নিয়োগ
গঙ্গাচড়াতেও সারের ডিলারে ভাগবাটোয়ারা বিএনপির
- পীরগাছার তালিকার ছাপ গঙ্গাচড়ায়
- নাম রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়িচালকেরও
- ১৪ লাখ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রংপুরের পীরগাছায় সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল গঙ্গাচড়ার তালিকা। এ উপজেলাতেও ডিলারি ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। ৯টি ইউনিয়নের কোনোটিতে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা নিজেরাই নিয়োগ বাগিয়েছেন, আবার কোথাও দিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের। তবে কিছু ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে রয়েছে অভিযোগ। এতে খোদ দলটির নেতারাও ক্ষুব্ধ। গত শুক্রবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
গত ৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’র সুপারিশ করা গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঠানো স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ‘সার ডিলার-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি’র অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু শর্তে সার ডিলার নিয়োগের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। তালিকায় সার ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটি থেকে স্বাক্ষর করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার। এতে মনোনীত সার ডিলার ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘কৃষি সার ডিলার’ হিসেবে মনোনীতদের এ তালিকায় রয়েছেন বিএনপি নেতা, তাদের স্ত্রী, জামাতাসহ স্বজনরা। এর মধ্যে বেতগাড়ীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপন মিয়ার ছোট ভাই রুহুল কুদ্দুস, কোলকোন্দায় উপজেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী, বড়বিলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর স্ত্রী মোছাম্মত রুজিনা, গঙ্গাচড়া সদরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকারের স্ত্রী মোসলেমা বেগম, লক্ষ্মীটারীতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবুর স্ত্রী জহুরা বেগম, গজঘণ্টায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের জামাতা লোকমান হোসেন।
এ ছাড়া মর্নেয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, আলমবিদিতরে রংপুর-১ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের খালাতো ভাই ও তার গাড়ির ড্রাইভার আবদুর রউফ বুলু এবং নোহালীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকারের ভাগ্নে মশিউর রহমান।
গতকাল শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠ-ঘাট, চায়ের দোকানসহ সর্বত্রই চলছে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। সেখানে উঠে আসে, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর নাম। তারা নিজেদের লোকজনের জন্য সুপারিশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই বিএনপি নেতা জানালেন, গজঘণ্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
দেনদরবার করেও নিয়োগ পাননি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান লুলু। তিনি বললেন, ‘বেশি কিছু বলতে পারব না, অজ্ঞাত কারণে আমার নাম সুপারিশ করা হয়নি।’
টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বললেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত করতে নিজেদের মধ্যে কেউ কেউ এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমরা ছিলাম, এটা ঠিক; কিন্তু যাদের দিয়ে কাজ হবে— এমন লোকদের নামই সুপারিশ করা হয়েছে। তবে নিজের স্ত্রীও তালিকায় আছে জানিয়ে তিনি স্বীকার করলেন, কয়েকজন নেতাকর্মীর স্বজনও ডিলারশিপ পেয়েছেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের ভাষ্য, ডিলারশিপ পেতে ৯ ইউনিয়নে ১৮১ জন আবেদন করেছিলেন। কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রতি ইউনিয়নে তিনজনের নামের তালিকা পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১ নম্বর তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত হয়ে এসেছে।



