মুকসুদপুর
ফেলনা পাটকাঠি এখন আয়ের উৎস

ছবি: আগামীর সময়
সোনালি আঁশের জন্য বিখ্যাত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা। একসময় কৃষকদের কাছে পাটকাঠি ছিল অনেকটা বোঝা কিংবা ফেলনা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। পাটকাঠি এখন আর শুধু জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা ছাউনি তৈরির উপকরণ নয়; পাটের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।
ফলে পাট চাষের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করেও বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছেন মুকসুদপুরের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বেড়েছে পাটকাঠির কদরও।
কৃষকরা জানান, পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর তা শুকিয়ে সোনালি আঁশ ঘরে তুলছেন। পাশাপাশি সংগ্রহ করছেন পাটকাঠিও। বর্তমানে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিও ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
অন্যদিকে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে বাড়ির আঙিনায় পালা দিয়ে রাখছেন চড়া দামে বিক্রির আশায়। যে দিকে দু চোখ যায় রূপালি কাঠি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যস্ত কৃষক।
স্থানীয়রা জানায়, এক সময় ৯০ ভাগ কৃষক মনে করতেন এটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ছাড়া কিছুই করা যায় না, তাই যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হতো। বিশ্ব বাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি দামও ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের পাট চাষি জাকির মোল্যা জানান, কয়েক বছর আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙিনায় পঁচে নষ্ট হতো। বর্তমানে পাটকাঠি ব্যাপক চাহিদা তাই ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।
পশারগাতী গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ফেলনা পাটকাঠি আগে কদর ছিল না তাই ফেলে দিত এখন এটা সোনার হরিণ যতো সময় নিয়ে বিক্রি করা যাবে তত লাভবান হওয়া যায়।
মো. মামুন শেখ নামে এক ব্যক্তি জানায়, উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের চারকোলা মিল স্থাপন হয়েছে এখানে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বের করা হয়। সেই ছাই থেকে কার্বন পেপার, কিম্পউটারের প্রিন্টারের কালি, ফোটোকপি কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারি, প্রসাধনী পণ্য, বিষ ধ্বংসকারী ওষুদ, দাঁত পরিস্কারের ওষুদ, সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সঙ্গে ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই দেশে ও বিদেশে বেড়েছে কাটকাঠির কদর।
মুকসুদপুর সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার রুহুল কুদ্দুস আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যাবে কৃষকরা দামও ভালো পাবেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির জানান, পাট উৎপাদনে দেশের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ৯ম স্থানে রয়েছে জেলার মধ্যে এ উপজেলা বেশি পাট উৎপাদন হয় এবার পাটের পাশাপাশি কাটকাঠিতে কৃষক লাভবান হবেন আশা করা যাচ্ছে।







