‘মামলা দিয়ে সারাজীবন জেল খাটানোর ভয় দেখায় ওসি’

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ— সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে এক রংমিস্ত্রীকে থানা হাজতে ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন সাব্বির ইসলাম মোহন নামের ওই রংমিস্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকযোগে অভিযোগটি পাঠানো হয়। এর অনুলিপি লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে সাব্বির ইসলাম মোহন দাবি করেন, গত ৩০ জুলাই লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে তার শ্যালীপতি (ভায়রা ভাই) রিয়াদ হোসেনের ভাড়া বাসায় তার স্ত্রী-সন্তান ও শাশুড়ি বেড়াতে যান। ওই দিন বাসার বকেয়া ভাড়া নিয়ে বাড়ির মালিক পান্না আক্তারের সঙ্গে মোহনের স্ত্রীর বড় বোন ও ভায়রা ভাই রিয়াদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে পান্না আক্তার মোবাইল ফোনে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু ছায়েদ লাদেনকে ডেকে আনেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে লাদেন তার ছেলে জেলা ছাত্রদল নেতা শাহাদাৎ হোসেন যুবায়েরসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিয়ে এসে বাসার দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। এরপর তারা মোহনের ভায়রা ভাই, স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মোহনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিতু আক্তারসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ভায়রা ভাই রিয়াদের ফোনে খবর পেয়ে মোহন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে রাত ৩টার দিকে মোহন আবার ভায়রা ভাইয়ের বাসায় গেলে সদর থানা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মোহনের দাবি, থানায় নেওয়ার পর ওসি ওয়াহিদ পারভেজ তাকে এ ঘটনায় মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে শাসান। একপর্যায়ে তাকে থানার লকআপে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বজনেরা থানায় গেলে তাদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরদিন লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ূনের উপস্থিতিতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাব্বির ইসলাম মোহন বলেছেন, ‘আমার পরিবার-পরিজন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হওয়ার পরও পুলিশের কোনো সহযোগিতা তো পাইনি, উল্টো আমি যেন মামলা করতে না পারি, সেজন্য ওসি আমাকে অন্যায়ভাবে থানার লকআপে আটকে বিভিন্নভাবে শাসান। এছাড়াও একাধিক চুরি-ডাকাতি মামলায় আমাকে ঢুকিয়ে দিয়ে সারাজীবন জেল খাটানোর ভয়ও দেখায় ওসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিলে ওসির কী ক্ষতি হতো, আমি জানি না। ওসির সঙ্গে সন্ত্রাসীদের এমন কী সম্পর্ক, যার জন্য তিনি আমার ওপর এমন জুলুম করলেন। আমি তদন্ত সাপেক্ষে ওসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাৎ হোসেন যুবায়ের বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি ঢাকায়। ওই দিনের ঘটনায় আমি ও আমার বাবা উত্তেজিত দুই পক্ষকে শান্ত করেছি। এর বাইরে আমাদের আর কোনো ভূমিকা ছিল না। মূলত সেদিন মোহনের আত্মীয় রিয়াদ তাদের ভাড়া বাসার মালিক পান্না আক্তারের সঙ্গে বকেয়া ভাড়া নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হন। পরে ঘটনাটি সমাধান করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন আমাদের দলীয় নেতারা।’
জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলিম হুমায়ূন বলেছেন, ‘তারা উভয়পক্ষ আমাদের দলীয় লোক। এ কারণে পরবর্তীতে বসে মীমাংসা করে দেব বলে পুলিশের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। ব্যস্ততা থাকায় বিষয়টি মীমাংসায় এখনো কোনো বৈঠক করতে পারিনি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেছেন, ‘অভিযোগের কোনো কপি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। লিখিত অভিযোগপত্র হাতে পেলে তদন্ত করা হবে। সে ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’







