বিদ্যুতের ভোজবাজি নগরে অন্ধকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং কিছুক্ষণ পরপর লোডশেডিংয়ের ঘটনায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নগরবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুতের এই ‘ভেলকিবাজি’ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ও পল্লী বিদ্যুৎসহ দৈনিক বিদ্যুতের মোট চাহিদা গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সিলেট নগরে ২৫২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০০ মেগাওয়াট। ফলে ৫২ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। এ কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
এদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় পুরো সিলেট বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২১৫ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অঞ্চলভেদে গড়ে ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে।
মহানগরের কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দিন-রাত মিলিয়ে ২০ থেকে ২২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। সিলেট মহানগরের টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম বললেন, ‘দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে, আবার ১০-১৫ মিনিট পরই চলে যায়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।’
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পাশাপাশি গরমে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। এ ছাড়া জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় সিলেট অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধিও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানালেন, বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নির্ধারিত রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুর রশীদ বলেছেন, ‘গ্রাম এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা যতটা সম্ভব সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করছি।’
তবে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নির্ধারিত সূচি না মেনে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।




