বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন, খাবার পাঠাল প্রশাসন

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। ছবি: আগামীর সময়
সাগর উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে ৯ দিন ধরে বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। দ্বীপবাসীদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশেষ খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।
তিনি জানান, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রলারে গতকাল সরকারি ভিজিএফের ৭৭২ বস্তা চাল সেন্ট মার্টিনে পৌঁছেছে। গত বুধবারও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও বিজিবির অনুমোদন নিয়ে দুটি ট্রলারে করে দ্বীপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ডিম, পান, সবজিসহ বেশ কিছু কাঁচাবাজার ও প্রয়োজনীয় পণ্য।
স্থানীয় কেফায়েত উল্লাহ বললেন, ‘সেন্ট মার্টিন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় খাদ্যপণ্য, ওষুধসহ প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী টেকনাফ থেকে আসে। কয়েকদিন নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেই সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষকে নানা সংকটে পড়তে হয়।’
শুধু খাদ্য বা যোগাযোগ নয়, বিদ্যুৎ সংকটও এখন দ্বীপবাসীর বড় দুর্ভোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জুবাইর জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেন্টমার্টিনে মিলছে না স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সেন্ট মার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানালেন, এই নৌপথে মোট ২৬টি যাত্রীবাহী ট্রলার রয়েছে। রোটেশন পদ্ধতিতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি ট্রলার চলাচল করে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত আট দিন ধরে সব ধরনের যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দুই প্রান্তেই বহু যাত্রী আটকা পড়ে আছেন।
সেন্ট মার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে কয়েকদিন নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন দ্বীপের বাসিন্দারা। বিশেষ করে জরুরি রোগীকে মূল ভূখণ্ডে নেওয়া তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরীর বলেছেন, সেন্ট মার্টিনের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলেই আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





