আবারও রাজস্ব ঘাটতির মুখে চট্টগ্রাম কাস্টমস

রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এবারও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না। অর্থবছরের শুরুতে এবার ১ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দশ মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে এই কাস্টমস। বাকি আছে মে ও জুন। এই দুইমাসে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় করলেও কমপক্ষে ১৭ হাজার কোটি আয় থেকে পিছিয়ে থাকবে।
তবে আগের অর্থবছরের ১০ মাসের তুলনায় এবার রাজস্ব আয় প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে এই কাস্টমস। টাকার অঙ্কে, যা ৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
দেশের শুল্ক বা আমদানি-রপ্তানি খাত থেকে যে রাজস্ব আসে, তার প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি একাই চট্টগ্রাম কাস্টমস আদায় করে। এনবিআরের মোট সামগ্রিক রাজস্বের (ভ্যাট ও আয়করসহ) প্রায় ২২ শতাংশ আসে শুধু এই একটি স্টেশন থেকে।
গত পাঁচ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস। এর পেছনে তিন কারণ খুঁজে পেলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন। বললেন, ‘বছর জুড়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খুলতে কড়াকড়ি, উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানিতে ধস এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্কহার শূন্য করায় কাস্টমস কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসেনি।’
‘বছর শেষে কত রাজস্ব আয় হবে; তা জানার জন্য আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে হবে। এখনই মন্তব্য করা যাবে না’— যোগ করলেন কাস্টমসের এই মুখপাত্র।
রাজস্ব আয়ের ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কোনোমাসেই রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার কিছুটা কাছাকাছি রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সেই মাসে ৭ হাজার ২০২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭ হাজার কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ব্যবধান ছিল সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ কিন্তু আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। আমদানি পণ্য আগের ১০ মাসের তুলনায় এক কোটি টন বেড়েছে এই দশ মাসে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি রিগ্যান জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরেই আমদানির গতি কম, পণ্য আমদানিতে ব্যাপক কড়াকড়ি ছিল। এর সঙ্গে সাত-আটটি ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খোলা বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব।
তার ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমেছে, উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানিতে ধস নেমেছে। মোটকথা মন্দাবস্থা চলছিল। এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন শুল্ক স্টেশনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ এককভাবে দেশের সর্ববৃহৎ রাজস্ব আয়কারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মদিবসগুলোতে এই কাস্টম হাউজ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার শুল্কায়ন প্রক্রিয়া এককভাবে সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে।




