বাংলা কিউআর : দিনে এক কোটি লেনদেন অর্জনে বাধা ৬ কোটি বাটন ফোন!

চট্টগ্রামের পাঁচতারা রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মশালা— আগামীর সময়
ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ‘বাংলা কিউআর’ এ চলতি অর্থবছরেই দিনে এক কোটি লেনদেনের লক্ষমাত্রা ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই অর্জনে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দেশে ৬ কোটি মানুষের হাতে থাকা বাটন ফোন। এসব ফোনে ইন্টারনেট সুবিধা নেই, কিউআর কোড ব্যবহার হয় না। এই বিপুল মানুষকে কিভাবে কমদামে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আনা যায় সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ শনিবার চট্টগ্রামের পাঁচতারা রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে চট্টগ্রামে এক কর্মশালায় এমন তথ্য উঠে আসে।
সেখানে উপস্থাপিত পেপারে দেখানো হয় কিভাবে প্রতিমাসে ‘বাংলা কিউআর’ এর ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৭ লাখ ২৩ হাজার ব্যবহারকারী ২১২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এপ্রিল পর্যন্ত গড় লেনদেনের সংখ্যা ৭ লাখের কাছাকাছি এবং লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২২৯ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মে মাসে ব্যবহারকারী বেড়ে ১৬ লাখ। লেনদেন হয় ৪৭৯ কোটি টাকা। জুন মাসে ব্যবহারকারী সরাসরি দ্বিগুন হয়ে ৩২ লাখ, লেনদেন ৮৪৪ কোটিতে উন্নীত হয়। জুলাই মাসে ব্যবহারকারী সাড়ে ৬২ লাখে উন্নীত হয়, লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার কোটি। ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ, ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীদের প্রচার-প্রচারণা এবং সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই বাংলা কিউআরে এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, 'ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়তে বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে এই লেনদেন দিনে এক কোটিতে নিতে চাই। এখন প্রধান প্রতিবন্ধক হলো বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা। মোবাইল ফোন আমদানির ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স কমিয়ে বাড়তি প্রনোদনা দিয়ে হলেও সেই লক্ষমাত্রায় পৌঁছাতে চাই। ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। নগদ টাকা পরিবহন ও জাল নোটের ঝুঁকি কমবে। আর টাকা ছাপানোর জন্য বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে গভর্নরের আশা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় 'ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ‘বাংলা কিউআর কোড’ লেনদেন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন।
বিশেষ অতিথি ডেপুটি গভর্নর ড. মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ জানান, বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন এবং দৈনিক ২ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশনের প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লক্ষ লেনদেন। বর্তমানে মাসে ১ কোটি লেনদেন হচ্ছে। অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মোহাম্মদ নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুল রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্ম পরিচালক জুয়েল মজুমদার ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। সেশনে বাংলা কিউআর এর ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা, সচেতনতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে গভর্নর বাংলা কিউআর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেমস চালু, চার্জ কমানোসহ নানা বিষয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।





