চট্টগ্রাম
জিপিএ ৫ পেলেও নিশ্চিত নয় সরকারি কলেজ

প্রতীকী ছবি
এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া ও ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের লক্ষ্য নগরীর সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া। তবে চট্টগ্রাম নগরীর আটটি সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে মাত্র ১০ হাজার ১০০টি। ফলে জিপিএ ৫ বা এর কাছাকাছি ফল করা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন। আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি কলেজে পড়ার আগ্রহ বেশি। অথচ আটটি সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের মোট আসন মাত্র ৩ হাজার ৫৯০টি। আর জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৩০২ জন। অর্থাৎ জিপিএ ৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। ব্যবসায়শিক্ষা বিভাগে আট কলেজে আসন রয়েছে ৩ হাজার ৭৭০টি এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৭৪০টি।
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। তাদের সঙ্গে জিপিএ ৫-এর কাছাকাছি ফল করেছে আরও ১৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করবে। ফলে শুধু জিপিএ ৫ পেলেই পছন্দের সরকারি কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ভালো শিক্ষার পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক, অবকাঠামো, ফলাফল ও তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে সরকারি কলেজে পড়ার আগ্রহ প্রতিবছরই বাড়ছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।
চট্টগ্রাম নগরীর আটটি সরকারি কলেজে সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে—২ হাজার ১৮০টি। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে রয়েছে ১ হাজার ৭২৫টি এবং সরকারি মহিলা কলেজে ১ হাজার ৪০০টি আসন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আসন ১ হাজার ৪০টি। বাকলিয়া সরকারি কলেজে ১ হাজার ৪৩৫টি, চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ হাজার ৫০টি এবং সরকারি কমার্স কলেজে ৯৭০টি আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজে রয়েছে মাত্র ৩০০টি আসন।
অর্থাৎ আট সরকারি কলেজে আসনের সংখ্যা সীমিত হলেও এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারীর চাপ তুলনামূলক অনেক বেশি। বিশেষ করে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ একই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পছন্দের তালিকায় রাখলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচ, দীর্ঘদিনের সুনাম, ভালো ফলাফল এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকসহ নানা সুযোগ-সুবিধার কারণে এসব কলেজের প্রতি আগ্রহ বেশি।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৪৯টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৪। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আসন কমেছে। চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। ফলে বোর্ডের মোট আসনের তুলনায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বললেন, ‘গত কয়েক বছরের ভর্তি তথ্য পর্যালোচনা করে কিছু কলেজে আসন কমানো হয়েছে। অনেক কলেজে অতিরিক্ত আসন বাড়ানো হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ নেই। কলেজগুলোর সক্ষমতা বিবেচনা করে এবার আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।’
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এবার কলেজভিত্তিক আসন পুনর্বিন্যাস করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। যেসব কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কম হচ্ছে কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে আসন কমানো হয়েছে।
আজ থেকে শুরু হওয়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আবেদন ফি ২২০ টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়তা করতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।







