বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করাবে চসিক

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিটি করপোরেশন পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিষয়টি জানান তিনি।
নগরের লালদিঘীপাড় সিটি করপোরেশন লাইব্রেরি ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে সিটি করপোরেশনের শিক্ষা বিভাগ।
নগরে সিটি করপোরেশন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ৬০ জন শিক্ষক অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং আনন্দময় ও কার্যকর পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষকের ক্লাস যত বেশি প্রাণবন্ত ও আনন্দময় হবে, শিক্ষার্থীরা তত বেশি আগ্রহ নিয়ে পাঠ গ্রহণ করবে। প্রচলিত একঘেয়ে পাঠদানের পরিবর্তে গল্প, কৌতুক, গান, উদাহরণ ও বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।’
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। একটি শিশু ঘর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার পর তার দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষকের ওপর বর্তায়।’
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ থাকলে, ক্লাসে অনাগ্রহ দেখালে কিংবা সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে না চাইলে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে তার সমস্যার কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে।’
এ লক্ষ্যে চসিকের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র। প্রয়োজন হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিবেশ, আচরণ ও নিয়মিত পড়াশোনার বিষয়েও শিক্ষকদের খোঁজ রাখতে হবে।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



