অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যের রাত পার হলো যেভাবে

প্রশাসনিক ভবনের ফটকের বাইরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগবিহীন অবস্থায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তার সঙ্গে ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উপাচার্যও ক্লান্তি অনুভব করছেন। তবে উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দিয়ে উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। রাতভর তারা ভবনের বাইরে অবস্থান করেন।
রাত ১টার দিকে ভেতরে থাকা চুয়েটের সাবেক দুই শিক্ষার্থী প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও টিটু সোহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসায় এগিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তার সঙ্গে ছিলেন টেকনোলজিস্ট বাসু দেব। তারা উপাচার্যসহ ভেতরে অবস্থানকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
রাত ৩টার দিকে ডা. আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, শাহরিয়ারের রক্তচাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ টিটু সোহানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানালেন, তিনি সুস্থ আছেন, তবে ক্লান্ত বোধ করছেন।
চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অপসারণের প্রতিবাদে গত ২১ দিন ধরে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল সকালে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। পরে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার দিকে ভবনের ফটকে আবারও তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপাচার্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা চুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি হননি। উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য মোরগ পোলাও, কলা, বিস্কুট ও পানি পাঠান শিক্ষার্থীরা। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে না বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব জানালেন, তাদের আন্দোলন শুরুতে বর্তমান উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ছিল না। তাদের দাবি ছিল, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অপমানজনকভাবে অপসারিত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা।
অর্ণব আরও জানান, শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি উপাচার্যের বিরুদ্ধে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ এবং চুয়েটের বাসে হামলা করানোর অভিযোগ করেন। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আর সমঝোতায় আগ্রহী নন। উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
তবে বাসে হামলা করানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তিনি বললেন, ‘আমি অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমি কীভাবে হামলা করাব।’ তিনি অভিযোগটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের বারবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।




