৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি: জি কে শামীমের বিচার শুরু

গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জালিয়াতির এক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাবেক নেতা ও আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন কাজ পেতে জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা হয়েছিল।
আজ রবিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান আসামি জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘মামলার একমাত্র আসামি জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’
জি কে শামীম নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জি কে বি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গুলশানের নিকেতনে প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যালয়। ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই কার্যালয় থেকে র্যাব বিপুল পরিমাণ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদসহ জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করে।
জালিয়াতির মাধ্যমে ৭৫ কোটি ১ লাখ ২৯৫ টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম জেলা–১–এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। তদন্ত শেষে দুদক ২০২৫ সালের ১৭ মে মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের (দ্বিতীয় পর্যায়) দরপত্রে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে।
দরপত্রের শর্ত ছিল ১০ বছরের সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতা, নির্ধারিত মূল্যের বহুতল ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা এবং নির্ধারিত টার্নওভার। কিন্তু জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। বিল্ডার্সের অভিজ্ঞতা ও টার্নওভারকে নিজেদের হিসেবে প্রদর্শনের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হয়।
এ ছাড়া যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর–১–এ অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক প্রমাণ পায়, জি কে শামীমের কোম্পানি প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখায় এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি সংখ্যার শেয়ার দেখায়। এভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দরপত্র জমা দেয়। জাল ও অসত্য নথিপত্র ব্যবহার করে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ বাগিয়ে নেয় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স–জিকেবিএল (জেভি)।
অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামি জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।








