চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিনোদন উপভোগ করতে সুযোগ করে দেয়াই লক্ষ্য।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে আয়োজিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এ সময় ডিসি বললেন, নগরবাসীর জন্য সুস্থ পরিবেশে বিনোদনের জায়গা খুবই সীমিত। ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই স্থানটি আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। কমপ্লেক্সটি পরিষ্কার করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, কালুরঘাট চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক স্থান, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই স্থান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। জায়গাটির সঙ্গে মানুষের আবেগ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো সংস্কার করে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে ১৬ দশমিক ৩৮ একর জায়গাজুড়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়। কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল, জাতীয় সংসদ ভবন, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ছোট সোনা মসজিদ, কান্তজিউ মন্দির ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন স্থাপনার রেপ্লিকা। এটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিতি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কমপ্লেক্সটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন পরিচালনাকারীরা চলে যাওয়ায় এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে পুরো কমপ্লেক্সটি ঘন জঙ্গলে ঢেকে যায়। পাশাপাশি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।





