চমেক হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চলছে ডেঙ্গুর চিকিৎসা

ছবি: আগামীর সময়
পটিয়ার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কয়েকদিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার আগে থেকে হার্টের অসুখ রয়েছে। রিং পরানো আছে একটি। ডেঙ্গু হওয়ার পর তিনি পরিচিত এক চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চলে আসেন। শয্যা পেয়েছেন মেঝেতে। তিনি বললেন, ‘অনেক রোগী। ডাক্তাররাও কী করবেন। মেঝেতে আছি।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এভাবে মেঝেতে রেখে ডেঙ্গু রোগীচিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটির তৃতীয় তলার মেডিসিন বিভাগে বড়দের ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ৫০ টি শয্যা রয়েছে।
আজ রবিবার এখানে মোট ডেঙ্গু রোগী ছিল ১০৫ জন। মেঝেতে গিজ গিজ করছে রোগী। ওয়ার্ডের বাইরে প্রধান ফটকের পাশে এবং বারান্দায়ও রাখতে হয় ডেঙ্গু রোগী।
এ ছাড়া শিশুস্বাস্থ্য বিভাগেও একই শয্যায় তিনজন পর্যন্ত রোগী রেখে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, ডেঙ্গু রোগী এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। রোগী আসছেই। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রবিবার সন্ধ্যায় পাঠানো তথ্য অনুযায়ী শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী নতুন ‘করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১৪ জন।
চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ বললেন, হাসপাতালে রোগী এখনো আসছে। চলতি মাসে আগের চেয়ে কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা আছে। হাসপাতালের শয্যার তুলনায় বেশি। তাই চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিছু রোগী আসে শেষমুহুর্তে। তখন তাদের নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়।
নগরের বাকলিয়া থেকে রিক্তা বেগম চমেক হাসপাতালে এসেছেন তিনদিন আগে। তার ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, দুইদিন মেঝেতে ছিলাম। এখন একটি সিট পাওয়া গেছে। বেশি রোগী ও অভিভাবকদের কারণে হাসপাতালের শৌচাগারের অবস্থা বেশি খারাপ। ওখানে যাওয়া যায় না।
শুধু নগর নয়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকেও ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালটিতে আসছেন। ফটিকছড়ি থেকে শনিবার রাতে আসেন রুবেল দাশ নামে এক যুবক। তিনিও মেঝেতে রয়েছেন।
রুবেল জানান, দুদিন ফটিকছড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন এখানে চলে আসছেন। শরীর খুব দুর্বল। জ্বর না থাকলেও অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে ৭ হাজার ৫৪১ জন ডেঙ্গু রোগী এবার পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৪১ জন মারা গেছেন। সরকারি হিসাবের বাইরে অনেক রোগী রয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুর সংখ্যাও সরকারি হিসাবের বেশি হতে পারে। অনেক ডেঙ্গু রোগী ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। আবার অনেক হাসপাতাল নিয়মিত ডেঙ্গুর প্রতিবেদন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠায় না।




