জলাবদ্ধতায় রিয়াজউদ্দিন বাজারে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার— আগামীর সময়
পানিতে নষ্ট হওয়া পণ্যের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন কাপড় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রহমত আলী। ভারাক্রান্ত মনে আস্তে আস্তে বললেন, ‘আমার কম করে হলেও ১০ লাখ টাকার কাপড় পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ভেজা কাপড় কেউ কিনবে না, দাগ পড়ে যাবে।’
গতকাল সোমবার সকালে ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে এখন চলছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ। পানি নেমে গেলেও দোকান ও গুদামে জমে থাকা ভেজা ও নষ্ট পণ্য সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। কাপড়, কম্বল, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমণ্ডি লেইন, গোলাম রসুল মার্কেট, নুপুর মার্কেট, কাঁচা বাজার ইত্যাদি পানিতে তলিয়ে যায়। পুরো এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক ছোট-বড় মার্কেট রয়েছে। দোকান রয়েছে ২৫ হাজার। সবগুলোকে এক নামে রিয়াজউদ্দিন বাজার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রায় সবগুলো মার্কেটের নিচতলায় গতকাল পানি ঢোকে। ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বণিক সমিতির নেতারা।
রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সালামত আলী বললেন, ‘১৯৯৭ সালের পর এমন পানি আর দেখিনি। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় একেকজন ব্যবসায়ীর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বা তারও বেশি মূল্যের কাপড়, কম্বল, জুতা ও ইলেকট্রনিকস পণ্য নষ্ট হয়েছে। পুরো মার্কেটে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মার্কেট ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে দোকানে পানি ঢুকতে শুরু করে। তখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় অনেকে দোকান খোলেনি। যারা খুলেছিল তারা হঠাৎ করে দোকানের মেঝে বা নিচের অংশে থাকা পণ্য সরানোর সুযোগ পাননি। প্রায় ২ ঘণ্টার মতো দোকানের মধ্যে পানি ছিল। এরপর বৃষ্টি থামলে পানি নামতে শুরু করে।
মঙ্গলবার দেখা যায়, এখনো ব্যবসায়ীরা দোকানের পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া মালামালের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো পণ্যগুলো বাছাই করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
জুতার দোকানি ইফতেখার উদ্দিনের কণ্ঠেও ছিল হতাশা। তিনি বললেন, ‘দুই দিন আগেই ৭ লাখ টাকার নতুন জুতা এনেছি। গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় র্যাকে জুতা না সাজিয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলাম। সব জিনিস মেঝেতে ছিল। সকালে এসে দেখি সবকিছু পানিতে ভাসছে। এই দুঃখ কাকে দেখাব?’
রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাশাপাশি তামাকুমণ্ডি লেইন, নুপুর মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই বাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ব্যবসায়ীরা পাইকারি পণ্য কিনতে আসেন। ফলে বাজারের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব স্থানীয় ব্যবসার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বর্ষায় এ নিয়ে দুই থেকে তিনবার ডুবল রিয়াজউদ্দিন বাজার। কয়েক ঘণ্টার জলাবদ্ধতায় যদি শতকোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে বারবার জলাবদ্ধতায় তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এমন ঘটতে থাকলে একসময় ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে ফেলবেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা। না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার এবং বাজারকেন্দ্রিক কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।







