পুলিশ কোন আইনে তুলে নিল— প্রশ্ন মাহাদীর

গত সোমবার মাহাদী হাসানকে তুলে নিচ্ছে পুলিশ— সংগৃহীত
পুলিশ হেফাজত থেকে বের হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনীভাবে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব মাহাদী হাসান। আজ মঙ্গলবার বিকালে এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাহদী বললেন, ‘প্রথমে বিক্ষোভ মিছিলের লিখিত আবেদন ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা চাইলে ওসি আমাকে বারণ করেন। তুলে নেওয়ার হুমকিও দেন। আমাকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বলা হয়। সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের মিছিলে পুলিশের অনুমতি থাকতেই হবে আমরা সেটি মনে করি না। আমাকে কিভাবে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে সবাই দেখেছেন। আমাদের নিরাপত্তার অজুহাতে কেন বেআইনীভাবে তুলে নেওয়া হল তার জবাব চাই। কোন আইনে তুলে নেওয়া হয়েছে জানতে চাই। ’
সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘প্রশাসনের বারণ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করায় নিরাপত্তা হুমকিতে পরে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা শেষে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে লোক জড়ো করা হয়। পুলিশ গিয়ে মাহাদীকে তাদের সঙ্গে যেতে অনুরোধ করে। না যাওয়ায় টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২১ বছর বয়সী মাহদী আলোচনায় আসেন পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। ওই বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মাহাদী।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপর মাহদী তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে নয়নকে আটকের কারণ জানতে চান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দিয়েছেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ মাহদীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি।








