বোয়ালখালীতে লোকালয়ে হাতি, এলাকায় আতঙ্ক

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পাহাড়ের পাদদেশে লোকালয়ে বিচরণ করছে বন্য হাতির পাল। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত দুদিন ধরে উপজেলার করলডেঙা পাহাড়ে ঘোরাফেরা করছে বাচ্চাসহ আটটি হাতি। মাঝেমধ্যে হাতিগুলো গ্রামে ঢুকে পড়ছে বলেও জানালেন স্থানীয়রা।
পাহাড় সীমান্তের এক গ্রামের বাসিন্দা নাট্যকর্মী অনুপম বড়ুয়া পারু জানালেন, পাহাড়ের পাদদেশে পূর্ব আমুচিয়া, পূর্ব ধোরলা, উত্তর করলডেঙা এলাকায় হাতির আতঙ্কে আছেন লোকজন।
তিনি বললেন, ‘করলডেঙা পাহাড়ে রাবার বাগান এলাকা থেকে বদরশাহ মাজার পর্যন্ত এলাকায় হাতিগুলো বিচরণ করছে। গতকাল দুটি বড় হাতি পূর্ব ধোরলা গ্রামের ভেতরে ঢুকে যায়। আজ সকালেও হাতিগুলোকে পাহাড়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা অমল চৌধুরী গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে করলডেঙার তুলাতল এলাকায় হাতিগুলো বিচরণ করতে দেখা গেছে বলে জানালেন।
পূর্ব আমুচিয়ার বাসিন্দা এস এম বখতেয়ার বললেন, ‘আগে শীতকালে হাতির উপদ্রব দেখা যেত। এবার বর্ষাকালেও হাতি এসে যাচ্ছে। হাতির আক্রমণে প্রতিবছর গ্রামে কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, পাহাড়ে বাগান নষ্ট হয়। প্রাণহানিও হয়েছে। এজন্য এখন হাতি দেখলেই লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।’
লোকালয়ে বন্য হাতির উপদ্রবের বিষয়টি জেনেছেন বললেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক, ‘বন্য হাতি মাঝেমধ্যেই করলডেঙা পাহাড় থেকে গ্রামের ভেতর আসে। আবার চলে যায়। বিরক্ত না করলে সাধারণত সেগুলো ক্ষতি করে না। গতকাল (রবিবার) সারা দিন পাহাড়ে হাতি দেখা গেছে। সন্ধ্যার দিকে যখন সেগুলো গ্রামে ঢুকতে শুরু করে, তখন আমি ফায়ার সার্ভিসকে বলেছিলাম ব্যবস্থা নিতে। পরে শুনেছি সেগুলো পাহাড়ের ভেতরে ঢুকে গেছে।’
বোয়ালখালী উপজেলা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার অলক চাকমা জানালেন, রাত হয়ে যাওয়ায় তারা পাহাড়ে হাতি তাড়ানোর জন্য যেতে পারেননি।
২০১৯ সালের নভেম্বরে বোয়ালখালীর করলডেঙা পাহাড়ের পাদদেশে হাতির আক্রমণে পাঁচজন নিহত হন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পাহাড়ে খাবারের সংকটের কারণে লোকালয়ে হাতি নেমে আসে।





