জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

মৌসুমী বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম কাপাসগোলা এলাকা থেকে দুপুর ১.৪০ মিনিটের তোলা ছবি- রনি দে
টানা ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর জনজীবন। তলিয়ে গেছে বাসাবাড়ি, অফিস। বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ দোকানপাট। থেমে গেছে বিয়ের অনুষ্ঠান। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার ভোর থেকে একটানা ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার, কাটালগঞ্জ, কাপাসগোলা, হালিশহর, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, প্রবর্তক মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
সকালের দিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে আগে থেকে না জানায় অনেক শিক্ষার্থী বাসা থেকে বের হয়ে পথে নেমে জলাবদ্ধতার মধ্যে আটকা পড়ে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
কোমর সমান পানি মারিয়ে বাবার সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরত আসা শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলল, 'স্কুলে পৌঁছে জানতে পারি আজকের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আগে থেকে জানানো হলে নোঙরা পানির মধ্যে এসে এমন ভোগান্তি পোহাতে হতো না।'
জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনের সংকটে বেশি বিপদে পড়েছে চাকরিজীবীরা। রিকশাভাড়া বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ, তবুও মিলছে না। পানিতে ডুবে সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বহু গাড়ি রাস্তায় অচল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঢাকনাবিহীন লানা পানির নিচে ডুবে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। কাতালগঞ্জে এক বিয়ের ক্লাবে পানি ঢুকে যাওয়ায় তাড়াহুড়ো করে রিকশা দিয়ে বর-কনে পার করে শেষ করা হয়েছে অনুষ্ঠান।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগর পরিদর্শন শেষে দাবি করেছিলেন, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়েছে।
তবে আজকের টানা অতি ভারী বর্ষণে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেনেরর অভিযোগ, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ভারী বর্ষণে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।’
রিকশাচালক মোহাম্মদ সোহেল বললেন, 'রাস্তায় এত পানি যে অনেক জায়গায় রিকশা চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীরাও ভয়ে আছে কখন খাদে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়।’





