গল্পে-আড্ডায় জমজমাট স্টেডিয়ামের কাবাব পাড়া

শুক্রবার ছুটির বিকেল গড়াতেই জমে ওঠে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি জেলা স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকা। ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি কাবাবের দোকান থেকে বাতাসে ভেসে আসে পোড়া মাংস ও মসলার সুঘ্রাণ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোজনরসিকদের আনাগোনা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে কাবাবের সঙ্গে আড্ডা।
এ এলাকা স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই ‘স্টেডিয়ামের কাবাব পাড়া’ নামে পরিচিত। দারুল কাবাব, সাকুরা কাবাব, রয়েল হাট, রোদেলা বিকেলসহ কয়েকটি পরিচিত খাবারের দোকানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এ পাড়া।
এখানে নানা বয়সী মানুষের আনাগোনা। নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক-যুবতী, সবাই আসেন এ এলাকায়। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। সাইফুল হক জানালেন, ‘একসঙ্গে কয়েকটি কাবাবের দোকান। বাচ্চাদের আবদারে ছুটির দিনে তাদের এখানে নিয়ে আসি।’
বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন দামের কাবাব পাওয়া যায় এসব দোকানে। শিক কাবাব, বটি কাবাব, চিকেন কাবাব, বিফ কাবাব, ব্রেইন ফ্রাই, কলিজা ভুনা, চিকেন টিক্কা, চিকেন চাপ, চিকেন শর্মা, গ্রিল চিকেনসহ মাংসের নানা পদ রয়েছে। এসবের সঙ্গে থাকে নান, পরোটা ও সালাদ।
দোকানের সামনে আগুনের আঁচে সময় নিয়ে তৈরি করা হয় কাবাব। কাবাব তৈরির ব্যস্ততা দেখলেই বোঝা যায়, কত মানুষের ভিড় এখানে। কেউ সুসজ্জিত দোকানের ভেতরে পছন্দের কাবাবের সঙ্গে গরম নান আয়েশ করে খাচ্ছেন। কেউ আবার পছন্দের খাবার প্যাকেট করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
রয়েল হাটের ম্যানেজার ভাস্কর জানালেন, ‘বিকেল থেকেই ভিড় শুরু হয়। সন্ধ্যার পর ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়।’
বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসা দুর্জয় শীল জানালেন, ‘বিভিন্ন ধরনের কাবাব ও অন্যান্য পদ পাওয়া যায়। তাই শুধু শুক্রবার নয়, সময় পেলেই অন্য দিনগুলোতেও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে আসি।’
তবে কাবাব পাড়ার আনন্দের পাশাপাশি ভোগান্তিও রয়েছে। মোটরসাইকেলের উৎপাতও কম নয়। প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে রাস্তা দখল করে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রয়েছে ভিক্ষুকদের উৎপাতও।
তারপরও প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা, কাবাব খাওয়া আর গল্পে মেতে ওঠার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলের এই স্টেডিয়াম পাড়া এখনো জনপ্রিয় একটি জায়গা।



