চালের বাজার ফের অস্থির, চিনিগুড়া চাল বস্তায় বেড়েছে হাজার টাকা

ছবি: আগামীর সময়
দুই মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা। এবার অজুহাত বন্যার। আতপ ও সিদ্ধ চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরায় একই চিত্র। চিনিগুড়া পোলাও চালের দামে তো রীতিমতো আগুন! কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু মিল মালিকদের ‘কারসাজির’ কারণে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
আজ শনিবার সকালে আড়ত ঘুরে দেখা যায়, আতপ পাইজাম চালের বস্তা ২০০ টাকা বেড়ে ৩২০০ টাকা, বেতি আতপ চাল ১০০ টাকা বেড়ে ২৮০০ টাকা এবং স্বর্ণা আতপ চাল ১৫০ টাকা বেড়ে ২৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লতা মিনিকেট চাল ২৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার টাকা এবং জিরাশাইল চাল ৩৫০ টাকা বেড়ে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়া সিদ্ধ চাল ৩ হাজার টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ চাল ৩১০০ টাকা এবং মিনিকেট আতপ চাল ৩৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একমাস আগেও এসব চালের বস্তার দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কম ছিল।
৫০ কেজি ওজনের চিনিগুড়া চালের বস্তার দাম ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৬ হাজার টাকার চিনিগুড়া চালের বস্তা এখন ৭ হাজারেরও বেশিতে গিয়ে ঠেকেছে।
পাইকারি দোকান মা ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক সুমন মিয়া বললেন, ‘মিল মালিক থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হয়। আমরা অল্প দামে কিভাবে বেচবো? ওপর থেকে চালের দাম কমে না আসলে ভোক্তা পর্যায়েও কমবে না।’
চট্টগ্রাম পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বললেন, ‘চিনিগুঁড়া চাল এমনভাবে স্টক করছে, মনে হয় যেন তারা মানুষকে খেতে দেবে না। মজুতদারি করে সবরকম চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে একটি চক্র।’
কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো চালের বাজারে ? এমন প্রশ্নের যৌক্তিক কোনো জবাব নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। কেউ কেউ জানালেন সিন্ডিকেটের কথা। কেউ বললেন হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার কথা।
পাহাড়তলী বাজারে চালের বস্তা কিনতে আসা আবদুল আলিম জানালেন, ‘প্রতি মাসে চাল কিনতে আসলেই দেখি দাম শুধু বাড়ে, কিন্তু কমতে দেখি না। ২ হাজার ৮০০ টাকার চাল ৩২০০ টাকায় নিলাম।’
উল্লেখ্য, দুই মাস আগেও বেতি আতপ, স্বর্ণ আতপ, পাইজাম এবং বিভিন্ন প্রকার সিদ্ধ চালের দাম বস্তা প্রতি আজকের বাজার তুলনায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।






