হত্যাকারীরা জিয়াউর রহমানের লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল: অর্থমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল হত্যাকারীরা- এমন মন্তব্য করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, ‘কিন্তু হত্যাকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। শহীদ জিয়া আজ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গায় শুয়ে আছেন। আজ সংসদের পাশে তিনি শুয়ে আছেন।’
আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন।
জিয়া হত্যার বিচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বললেন, ‘আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগে বিশ্বাস করি। বিচার কি হবে সেটা বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনীতিবিদরা নেবে না। বিগত দিনে যেটা হয়েছে আমরা সেটা করবো না।’
জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের দেশ গড়ার পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানালেন অর্থমন্ত্রী, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের নায়ক। জিয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন। তিনি একটি আধুনিক, স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ গড়ার যে স্বপ্ন শহীদ জিয়ার ছিল, সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি সবাই মিলে।’
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বেরিয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বললেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশের যে যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সহযাত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পাশে আছি। আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করে যাব।’
আওয়ামী লীগ যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে রাজনীতি করতে পারবে না বলেও জানালেন তিনি, ‘কোনো দুষ্কৃতিকারী সংগঠন দেশের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। আমরা এটা করতে দেব না। তারা যদি আদালতে যায়, আদালত যদি তাদের কোনো ফয়সালা দেয়, সেটা আদালতের বিচার্য বিষয়।’
শ্রদ্ধা জানানোর সময় মন্ত্রীদের সঙ্গে সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাঙ্গুনিয়ার প্রথম কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে রীতিমতো দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে গাড়ি নিয়ে নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরে যান।
এর আগে, আজ সকালে নগরীর বিপ্লব উদ্যানের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় মেয়র দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঠেকাতে শহীদ জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাবার আহ্বান জানালেন, ‘বিএনপি স্বাধীনতার মহান ঘোষক জিয়াউর রহমানের গড়া দল। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। অথচ এখন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে নানা উপায়ে বিকৃত ও ভুলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।’
মেয়রের সঙ্গে চট্টগ্রাম সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, নগর বিএনপি নেতা গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নগরীর কাজির দেউড়িতে দুপুরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গরীব লোকজনের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এছাড়া নগরীতে আরও বিভিন্ন সংগঠন জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে।









