সোনালি প্রজন্মের সোনালি ট্রফি

সংগৃহীত ছবি
মানুষ বাঁচে নিজের কর্মে, যা তাকে এনে দেয় আলাদা পরিচয়। ফেরান তোরেস যেমন, স্পেনের ‘বিশ্বকাপ জয়ী গোলদাতা’— এটা তার নতুন পরিচয়। আর এই পরিচয় নিয়েই নিজের নতুন জন্ম দেখতে পারেন স্প্যানিশ তারকা। ১৯ জুলাইয়ের দিনটিকে প্রতি বছর আলাদা করে উদযাপন করতে পারেন। তাকে এখন থেকে আর চার বছর অপেক্ষা করতে হবে না।
প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে চার বছরের অপেক্ষার কী সম্পর্ক? আছে। তোরেসের জন্মদিন ২৯ ফেব্রুয়ারি। সবার জানা লিপ ইয়ারের এই দিনটি আসে চার বছর পরপর। তোরেসকে তাই জন্মদিনের আয়োজন করতে চার বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এখন থেকে চার বছর নয়, প্রতি বছর নিজের নতুন পরিচয়ের দিনটিকে ‘নতুন জন্মের’ দিন হিসেবে উদযাপন করতে পারেন তোরেস।
অবশ্য এই ফুটবলার নিজের অর্জনকে ভাগ করে দিলেন স্পেনের প্রতিটি মানুষের নামে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে স্পেনের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জয়সূচক গোল করেন তোরেস। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘এটি ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের গোল। এটি শুধু আমার বা ২৬ জন খেলোয়াড়ের গোল নয়। এই গোল হওয়ারই ছিল, এটি জয় এনে দেওয়ার জন্যই নির্ধারিত ছিল।’
স্পেনকে দুই তারকা এনে দিতে যার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল তিনি দে লা ফুয়েন্তে। ৬৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার অধীনে ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও ঘরে তুলল স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়েছে দলটি।
দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘আমরা সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল। আমাদের খেলোয়াড়দের একতা, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতাই এ সাফল্যের মূল কারণ। আগে মানুষ ফুটবল দলকে স্কিল, সাফল্য দিয়ে মাপত। কিন্তু আমার এই দলটার মূল্যবোধ অন্যরকম। তারা নিজেদের একসঙ্গে দেখতে চায়, স্কিল ফুল হয়ে না। তারা চায় একসঙ্গে জিততে।
এই মনোভাব দলটিকে একটি পরিবার হিসেবে এক হতে সাহায্য করেছে। আমি ওদের ওপর অনেক খুশি এবং গর্বিত। এই ছেলেরা সবকিছু জিতেছে, সত্যিকার অর্থে সবকিছু।’
শুধু দল নয়, খেলোয়াড়রা কোচের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রশংসাও পেয়েছেন। লামিন ইয়ামালকেই আলাদা করে রাখলেন ফুয়েন্তে, ‘সে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলেছে। দেশের (স্পেন) যে কেউ চাইত ও যেন ভালো করে। গোলের দিক থেকে, নিজের অর্জনের দিক থেকে। কিন্তু দেখুন লামিন তার ব্যক্তিগত অর্জনকে পাশে রেখে দলের জন্য খেলেছে। এটা ওকে পরিণত ফুটবলার হিসেবে তৈরি করবে।’
বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেন জুড়ে শুরু হয় উৎসব। মাদ্রিদ, বার্সেলোনা থেকে শুরু করে লামিন ইয়ামালের বেড়ে ওঠা মাতারোর রোকাফোন্দা— সবখানেই ভক্তরা রাস্তায় নেমে আনন্দ-উল্লাস করেন। অনেকে স্পেনের বিভিন্ন শহর থেকে এসে উপস্থিত হচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদে। দেশটির রাজধানীতেই তো হবে বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন।
১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করল স্পেন।




