মার্কিন সেনা নিহতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর আবারও ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ ইরানের একাধিক শহরে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। ছবি: সিএনএন
মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফায় সামরিক হামলা চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম)।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার ইরান কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করলে, সেই হত্যার মূল্য তাদের দিতে হবে বহু গুণ বেশি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এই নির্দেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং সামরিক বাহিনীর সব শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহরে পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র বলছে, হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপ, সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার ও কোনারাক, হরমুজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এবং সিরিক এলাকায় হয়েছে বিস্ফোরণ।
মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, চাবাহার ও কোনারাকে অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন সিরিক এলাকাতেও পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। কয়েক রাত ধরেই দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
বুশেহর এলাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর জানিয়েছে ইরানের একাধিক গণমাধ্যম।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, কেশম দ্বীপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ হয়েছে। হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে তারা। তবে এসব বিস্ফোরণের উৎস বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি কিছুই।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, দেশটির কেরমান প্রদেশের রুদবারে জানুবি এলাকায় প্রতিহত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।





