মারাকানায় শুরু মেটলাইফে শেষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২১ সালে মারাকানায় শুরু আর্জেন্টিনার রাজত্ব। ব্রাজিলকে তাদেরই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছিল লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। এরপর বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা ও আরেকটি কোপা আমেরিকা। টানা ৫ বছর ৯ দিন ধরে চলা এ রাজত্বের শেষ যদি হতেই হতো, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে বড় মঞ্চ আর কী হতে পারত?
ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারলেও আর্জেন্টাইনরা ভুলবে না এই দলটিকে— আনন্দের জন্য, সুন্দর স্মৃতির জন্য আর ভালোবাসার কান্নার জন্য। আসলে ফাইনালটি ছিল শুধুই দীর্ঘ কষ্টের, যেখানে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো টাইব্রেকারও ছিল না। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এখন স্পেন। মারাকানায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনার দাপটটা তাই শেষ হলো মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
স্পেন তাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে আর আর্জেন্টিনা যতটুকু পেরেছে সামলানোর চেষ্টা করেছে। এমিলিয়ানো মার্তিনেস ১১টি সেভ করে হারের ব্যবধানটা আরও লজ্জাজনক হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্জেন্টিনা সবসময় প্রতিপক্ষের চেয়ে এক-দুই সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে বের হয়ে যাওয়া বলের পেছনে ছুটেছে।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মেসির কান্নাই বুঝিয়ে দেয় একটি সোনালি যুগের অবসান হলো। এমন এক উজ্জ্বল, সফল ও অবিস্মরণীয় যুগ, যা গর্বিত করেছে আর্জেন্টাইনদের। এখন নতুন যুগের স্বপ্ন দেখবে তারা। সেই স্বপ্নের সারথি হয়ে থাকবেন তো কোচ লিওনেল স্কালোনি?
সংবাদ সম্মেলনে আবেগী স্কালোনি বলেছেন, ‘আমি ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। মনে হয় কিছুটা সময় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবার অধিকার আমার আছে। কখনো ভাবিনি যে, এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছাব আর এটা সত্যিই অসাধারণ। দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনেক কিছুর প্রয়োজন— মনকে নতুন করে তৈরি করা, নতুন করে সব শুরু করা, আবার এরকম একটি দল গড়ে তোলা— যা খুবই কঠিন কাজ।’
টানা চারটি শিরোপা জেতা আর্জেন্টিনা ফাইনালেও নিজেদের সর্বোচ্চটা খেলেছে বলেও দাবি স্কালোনির, ‘সবাই যেভাবে মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, সেটা দেশের মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আপনাকে আবারও উঠে দাঁড়াতে হবে। যখন কেউ মাঠে এভাবে নিজের সবটা ঢেলে দেয়, তখন তার কোনো ভুল খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।’
স্পেন ভালো খেলে শিরোপা জিতেছে বলে মেনেও নিলেন স্কালোনি, ‘তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে, এটা সত্যি। তবে আমার খেলোয়াড়দের অর্জন, দারুণ স্মৃতি হয়ে মনে থেকে যাবে। জয়ের সময় আমরা যেমন বিনয় দেখাই, হারের পরও আমাদের তেমনই থাকা উচিত। আমরা হার মেনে নিতেও জানি। আমরা হেরেছি আর মাথা পেতে তা স্বীকার করছি।’
পাস, পাস আর পাস। স্পেনের ফুটবলের দর্শনই এটা। ম্যাচে তারা পাস দিয়েছে ৮৫৩টি। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ‘ওলে’ লিখেছে, এতগুলো পাসই ছিল আর্জেন্টিনার মৃত্যুফাঁদ। সে ফাঁদ থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি আর্জেন্টিনা।




