ছোট্ট মাইরার আর্জেন্টিনা সাপোর্টার হওয়ার গল্প

মাইরা
আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী মাসুদের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মাইরা। বয়স ৪ বছর ৭ মাস। পড়ে ফ্রোবেল স্কুলের লোয়ার কেজিতে। বড় দুই ভাই-বোনের তুলনায় ছোট্ট মাইরা অনেক চটপটে ও মুখরা। কথার খই ফোটে মুখে।
বিশ্বকাপ ফুটবলে মাইরা কোন দলকে সাপোর্ট করবে এমন প্রশ্নে তার সাফ জবাব- ‘বাবা কোন দল করে। আমি বাবার আর্জেন্টিনার পক্ষে। মাসুদের ঘরের পাঁচ সদস্যের মধ্যে স্ত্রী নাদিয়া ও মেয়ে মুনাইসা ব্রাজিলের সাপোর্টার। মাসুদ ও তার বড় ছেলে মুনাজিল আর্জেন্টিনা। এবার যুক্ত হলো মাইরাও।’
যেই কথা, সেই কাজ মাইরার। আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে থাকে সবসময়। দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে মাইরার প্রথম প্রশ্ন, ‘এখানে কী সবাই আর্জেন্টিনা’? বাবা অবুঝ মাইরাকে বুঝ দেওয়ার জন্য বলে ফেললেন, চেম্বারে থাকা ৭ জনের সবাই আর্জেন্টিনা। বাবার জবাব শুনে মেয়ে আশ্বস্ত হয়। ডাক্তার দেখাতেও সম্মতি দেয়। যদি তাকে বলা হতো ডাক্তার চেম্বারের সবাই আর্জেন্টিনা না, তাহলে মাইরা বেঁকে বসতো। ডাক্তার দেখানো তাকে কঠিন হয়ে পড়তো।
খেলা হলে ঘরে টিভির রুমের সামনে কতক্ষণ খেলা দেখে আবার কতক্ষণ ছুটোছুটি করে। আনন্দ প্রকাশের নানা ভঙ্গিও করতে থাকে। ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর বড় বোনকে উদ্দেশ্য করে মাইরা তার বাবা-মাকে বললো, ‘আপুর দল ব্রাজিল হেরে গেছে। তাকে এখন ব্রাজিল পাঠিয়ে দাও’।
খেলার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের চাইতে ছোট্ট মাইরার নানা ‘আকুতি-বিকুতি’ কম আনন্দ দেয় না এই পরিবারের সদস্যদের। আর্জেন্টিনার মেসির গোল যেমন প্রাণ ভরে যায়, তেমনি মাইরার আনন্দ প্রকাশের ভঙ্গি তাদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করে।




