ডাকাতের আস্তানায় মিলল ‘বাহিনীর গুলি’, উৎসের খোঁজে পুলিশ

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসকবলিত’ রাউজান উপজেলায় দুর্ধর্ষ এক ডাকাতের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে ১১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ বলছে, এসব গুলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেসব গুলি ব্যবহার করে সেগুলোর মতোই। এসব গুলি থানা থেকে লুট করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর গ্রামের জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় ‘জানে আলম ডাকাতের’ আস্তানায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, ডাকাতদলের সঙ্গে গোলাগুলিতে তাদের ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। জানে আলম ডাকাতের সহযোগী দিলদার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানালেন, রাউজানের ব্যবসায়ী আবু বক্কর চৌধুরীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়ে ডাকাত জানে আলম ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযানে নামে পুলিশ। গভীর রাতে জানে আলমের বসতঘরের সামনে আস্তানায় অভিযান শুরুর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও শটগান থেকে প্রায় ১৫ রাউন্ড এবং পিস্তল থেকে ২-৩ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়ে।
গোলাগুলির পর পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদারকে আটক করে। তবে আস্তানা থেকে বাহিনী প্রধান জানে আলম ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আজিজ এবং তাদের সহযোগী রুবেল, মামুন ও বাচা পালিয়ে যান। রাউজান থানার এসআই মোহাম্মদ জান্নাতুন নাঈম রাজন, খোরশেদ আলম, বায়েজিদ মৃধা, জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই রবিউল হোসেনসহ ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে দিলদারের দেওয়া তথ্যে পুলিশ আস্তানায় তল্লাশি করে একটি দোনলা ও একটি একনলা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড কার্তুজ ও কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে।
এসপি মাসুদ আলমের ভাষ্য, ‘রাইফেল বা এসএমজির গুলি। যেগুলো সাধারণত আমরা পুলিশ ব্যবহার করে থাকি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যবহার করে থাকে। এরকম ১১৯ রাউন্ড গুলি সেখানে পাওয়া গেছে।’
রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘চায়না রাইফেলের যেসব গুলি পাওয়া গেছে সেগুলো আমরাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করি। সেগুলো ডাকাতদের কাছে কীভাবে গেল ? তারা কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করল ? অবশ্যই তদন্ত করা হবে। কারণ এসব গুলি বিদেশ থেকে আমদানি করা। আমাদের ধারণা, এগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট করা গুলি হতে পারে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাউজানে জানে আলম বাহিনীর উত্থান ঘটে। এ বাহিনী ‘ডাকাত আলম’ বাহিনী হিসেবে পরিচিত। নেতৃত্বে আছেন জানে আলম ও মোহাম্মদ আজিজ। একইসময়ে রাউজানে রায়হান আলমের আরেকটি বাহিনীও সক্রিয় হয়। রায়হান বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। দুই বাহিনীর মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গত দুই বছরে রাউজানে একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, ‘রায়হান বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যকে আমরা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। এখন রায়হান গ্রুপটা অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। এ সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জানে আলম বাহিনী। চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত দুই বাহিনীর সদস্যরা।’



