চট্টগ্রামে ফের শিশু ধর্ষণচেষ্টা, আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে অবরুদ্ধ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আজ শুক্রবার দুপুরে নগরীর ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার এহসান (৪২) এলাকার একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও নগরীর বাকলিয়া এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ডবলমুরিংয়ে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির তৈরি হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের সঙ্গে হাজীপাড়ার যে ভবনে থাকে, এহসান সেই ভবনেরই কেয়ারটেকার। আজ দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে সে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং এহসানকে আটকে ফেলে।
ধর্ষণচেষ্টার এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে ডবলমুরিং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এহসানকে আটক করে। তবে পুলিশ তাকে নিয়ে আসতে চাইলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং পুলিশের হাত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
উপস্থিত জনতার দাবি, আসামির বিচার তারাই করবেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে একটি ভবনের ভেতর প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার এবং আসামিকে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ধর্ষণচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমরা আসামিকে আটক করার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশকে ঘিরে ফেলে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় আমরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে সক্ষম হই।’
ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল আলম পারভেজ জানালেন, এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় এহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকালে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য।






