৩২ বছর পর ৪৪ বছরের জেল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রায় ৩২ বছর আগে পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (বিটিটিবি) সাবেক তিন কর্মকর্তার প্রত্যেককে ৪৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত তাদের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ডেরও আদেশ দিয়েছেন।
সাতটি পৃথক ধারায় আসামিদের প্রত্যেকের ৪৪ বছর করে কারাদণ্ড হলেও রায় অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর করা মামলার বিচার শেষে আজ সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান।
এদের মধ্যে সাদিকুর বিটিটিবির চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ)। কামরুল সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী। মোহাম্মদ হোসেন ওই কার্যালয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার (উচ্চমান সহকারী)।
দণ্ডবিধির ছয়টি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত সাজা দিয়েছেন বলে জানালেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি রেজাউল করিম রনি।
দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৭৭ ধারায় প্রত্যেককে ৫ বছর করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আলাদা ধারায় দেওয়া সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।
আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বলে জানালেন পিপি রেজাউল করিম রনি।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামি মোহাম্মদ হোসেন দাপ্তরিক কাজের জন্য নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ২৪টি চেকের মাধ্যমে তুলে নেন। অতিরিক্ত টাকা তোলার জন্য তাকে ক্ষমতাপত্র দেন তিন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম, সাদিকুর রহমান খান ও স্বপন কুমার মিত্র।
সেই টাকা পরস্পরের যোগসাজশে আত্মসাতের অভিযোগে ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার মোহাম্মদ নুর আহাম্মদ চারজনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। ১৪ বছর পর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে তিন আাসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের পরিদর্শক অজয় কুমার সাহা। স্বপন কুমার মিত্র মারা যাওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মোট ৩১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত এ রায় দেন।




