চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ভালোভাবেই চোখ রাঙাচ্ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি ডেঙ্গুর প্রকোপে বড় প্রভাব রাখছে। জুলাই মাসেই ডেঙ্গু রোগী আগের মাসের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৬ জনে। মারা গেছেন ২ জন।
সাধারণত জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ে। এডিস মশার কামড়ে রোগটির বিস্তার ঘটে। এই সময়টাতে থেমে থেমে বৃষ্টি, জমে থাকা পানিতে এডিসের জন্ম। এ কারণে আগামী তিন-চার মাস ডেঙ্গু বাড়তে পারে।
জুন মাসে এবার চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা ১২২ জন। জুলাই মাসে প্রাপ্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা গত দুই বছরের একই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের তুলনায় বেশি। গত বছর জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪৩০ জন। ২০২৪ সালে ওই মাসে ছিল ১৯৮ জন। তবে গত বছর জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে মারা যান ৭জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রতিদিনের ডেঙ্গু রোগীর হিসাব সংরক্ষণ করে থাকে। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর তালিকা থেকে তারা এটি সংরক্ষণ করে। অনেক রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ও হাসপাতাল প্রতিদিন তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীর তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠায় না নিয়মিত। এ ছাড়া চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও অনেক রোগী চিকিৎসা নেন। তারাও হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, তারা সব প্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গু রোগীর তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। জুলাই মাস থেকে প্রতি বছর ডেঙ্গু রোগী বাড়ে। এ ব্যাপারে তারা সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সরকারি হিসাবে এখন বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন। দৈনিক গড়ে অন্তত ১৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৩৪ জন। মারা গেছেন ৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪১ জন উপজেলা, ৩৩৮ জন শহর ও ১১৫ জন অন্য জেলা থেকে এসে চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ছিল ২০২৩ সালে, ১৪ হাজার ৮৭ জন। মারা গিয়েছিল ১০৭ জন। গতবছর আক্রান্ত ছিল ৪ হাজার ৮৬৪ জন। মারা যায় ২৭ জন।
এবার আক্রান্তদের ৮১ জন সীতাকুণ্ড উপজেলার ও ৫৭ জন কর্ণফুলী উপজেলার।







