‘নিজেরাই অস্তিত্ব বিলীন করা আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়েছিলেন জিয়া’

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়া। ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লবের’ মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানের এ দুটি বড় অর্জন বলে মনে করছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বললেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের রাজনীতিবিদেরা দেশের ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তখন মেজর জিয়া নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও কর্মরত অবস্থায় রিভোল্ট করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি। সম্মুখযুদ্ধ করেছেন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। দেশ স্বাধীনের পর তিনি আবার নিজ কর্মক্ষেত্রে ফেরত গেলেন।’
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনীর কুচক্রী কয়েকজন দেশবিরোধী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে আটক করলেন। তখন এদেশকে অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করার জন্য সিপাহী-জনতা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের প্রিয় জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করলেন। উনাকে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিলেন।’
৭ নভেম্বর সেই দিনটিতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রার সূচনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল, ‘জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রবর্তন করলেন। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে কাজটা করলেন তিনি, বাকশাল সৃষ্টি করে যারা নিজেদের দলে অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়েছিলেন, সেই আওয়ামী লীগকে তিনি রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এভাবে তিনি হয়েছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক। খাতা-কলমে লিখে কাউকে ইতিহাসের মহানায়ক বানানো যায় না।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবার দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘কৃষি, ফরেন রেমিট্যান্স, আরএমজি সেক্টর তিনটি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তিনটি ক্ষেত্রই প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তের সন্ধানে সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিং, আইটি, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঊর্ধমুখী গতি ফেরত পাবে।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ ঊর্দ্ধতন কয়েকজন কর্মকর্তা সভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া সকালে চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সিটি প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ আরও অনেকে সেখানে ছিলেন।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ব্যারাক থেকে জনতার কাতারে নিয়ে আসে। এর ফলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অভ্যুদয় সেদিন হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তি সব মিলিয়ে।’
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নগরীর নাসিমন ভবন প্রাঙ্গনে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।



