রেডিমেডে ভিড়, ফাঁকা দর্জিপাড়া

আসকারদিঘী পাড়ের একটা লেডিস টেইলারিং থেকে তোলা. ছবি: রনি দে
একসময় নতুন পোশাকের আনন্দ মানেই ছিল কাপড় কিনে দর্জির দোকানে মাপ দেওয়া। ঈদ, পূজা কিংবা বিয়ের মৌসুম এলেই দর্জিপাড়ায় লেগে থাকত উপচে পড়া ভিড়। অর্ডারের চাপে অনেক দর্জির দোকানে 'অর্ডার বন্ধ' নোটিশও ঝুলত। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রেডিমেড পোশাকের বিস্তার, ফ্যাশন হাউসের প্রসার এবং সেলাই খরচ বেড়ে যাওয়ায় দর্জিদের ব্যস্ততা কমেছে।
নগরীর বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে ক্রেতার ভিড় নেই।
মতি টাওয়ারের রিফাত টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, 'আমাদের ব্যবসা এখন পুরোপুরি মৌসুমনির্ভর। ঈদ ও পূজার সময় কিছুটা কাজ থাকে। বছরের বাকি সময় দোকানে বসেই দিন কাটে। স্কুল-কলেজের ইউনিফর্মের অর্ডারই তখন ভরসা।'
সাগরিকা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মোকতার জানান, 'আগে মানুষ প্রায় সব পোশাকই টেইলরে বানাতেন। এখন রেডিমেডই সবার পছন্দ। কেবল দামি কাপড়, বিশেষ অনুষ্ঠানের পোশাক কিংবা ব্লাউজ সেলাইয়ের জন্যই মানুষ টেইলার্সে আসেন।'
টেইলের বানানো খরচ বাড়ার কারনে রেডিেমড কাপড়ে ঝুঁকছেন ক্রেতা-এমন মন্তব্য গ্রাকহদের। বর্তমানে একটি সাধারণ কামিজ বা জামা তৈরি করতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। লাইনিং, এমব্রয়ডারি বা বিশেষ নকশা থাকলে সেই খরচ এক হাজার টাকারও বেশি। ফলে অনেক ক্রেতার কাছে রেডিমেড পোশাক তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে।
গ্রাহক শামসুর নাহার জানালেন, 'সময় থাকলে নিজের পছন্দের কাপড় কিনে পোশাক বানাই। আবার ফিটিং ঠিক করানোর প্রয়োজন হলে দর্জির কাছেই আসি।'
দর্জিশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগররাও আয় কমে যাওয়ার কথা বলছেন। পাহাড়তলীর ঝাউলতলায় এমব্রয়ডারি কারিগর মোহাম্মদ রাকিব জানান, 'আগে সুতার এমব্রয়ডারির কাজ করে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হতো। এখন সেই আয় অর্ধেকেরও কম। কারণ, বেশির ভাগ পোশাকই এখন কারখানায় তৈরি হয়ে বাজারে আসে।'
দর্জিদের অভিযোগ, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কারিগরের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বাড়লেও অর্ডার কমে যাওয়ায় সেই খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। টিকে থাকার জন্য অনেকেই এখন সেলাইয়ের পাশাপাশি দোকানেই রেডিমেড পোশাক বিক্রি করছেন।
একসময় দক্ষতা, আস্থা ও নান্দনিকতার প্রতীক ছিল দর্জিশিল্প। এখন মৌসুমি ব্যস্ততার বাইরে বছরের অধিকাংশ সময়ই কাজের অপেক্ষায় কাটছে বহু দর্জি ও কারিগরের জীবন। সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের প্রাণচঞ্চল দর্জিপাড়া।




