Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
শাহনাজের হাত ধরে স্বাবলম্বী ৭০০ নারী
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় চট্টগ্রাম

জাহাজ বাণিজ্যের ‘বিশ্বমঞ্চের ক্যাপ্টেন’ গোলাম হোসেন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫
জাহাজ বাণিজ্যের ‘বিশ্বমঞ্চের ক্যাপ্টেন’ গোলাম হোসেন

সংগৃহীত ছবি

গোলাম হোসেনের গল্পের শুরু উত্তাল সমুদ্রে। বৈরী আবহাওয়ায় সারাবিশ্বের সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়েছেন সাহস ও সফলভাবে। স্টিয়ারিং বা শিপস হুইল ঘোরাতে ঘোরাতে জাহাজের সফল নেভিগেশনের সঙ্গে মিলে গেছে জীবনের অনন্য সফল যাত্রার গল্পও। ১৪ বছর সমুদ্রে থাকার পর উঠলেন হংকং উপকূলে। আবারও নতুন চ্যালেঞ্জ। এবার আর মাসিক বেতনে নয়, নামলেন লাভ-ক্ষতির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়। এখানেও সফল। ২৪ বছরের ব্যবসাজীবন ছেড়ে হাল ধরেছেন উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র বাহামাসের শিপ রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের। হয়েছেন ডেপুটি ডিরেক্টর। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বিদেশি হয়েও দেশটির এমন উচ্চ ও সম্মানের পদে নিয়োগ পেলেন। ইংল্যান্ডের অফিসে বসেই নিচ্ছেন বাহামাস সরকারের মেরিটাইম সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে বাহামাসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে।

এমন চৌকস ও সৌভাগ্যবান গোলাম হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। বাড়ির পাশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির মেধাবী ক্যাডেট। আনোয়ারা স্কুল ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ হয়ে তিন বছরের কোর্স শেষ করেন মেরিন একাডেমিতে।

একাডেমিতে ‘গোল্ড মেডেলিস্ট’-এর মতো ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট তাকে সাহস জোগায় লক্ষ্য পূরণে। মেরিনাররা সাধারণত জাহাজের ক্যাপ্টেন হয়ে দক্ষতা অর্জনের পর অবসরের আগে স্থলভাগেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গোলাম হোসেন সেক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তার লক্ষ্য বহুদূর। বিশ্ব মেরিটাইম সেক্টরে নিজেকে যোগ্য করতে মনোযোগ দেন ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং মেরিটাইম আইনের ডিগ্রি অর্জনে। বিশ্ব জুড়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে গড়ে তোলেন নিজেকে। লন্ডনের নটিক্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দিয়ে দেখান নিজের দক্ষতা। এরপর ঢাকায় একই রকম ইনস্টিটিউট গড়ে পথ দেখান বাংলাদেশি মেরিনারদের উৎকর্ষ অর্জনের।

একজন মাস্টার মেরিনার যখন মেরিটাইম আইন ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা দুটোতেই দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখনই তিনি জাহাজ পরিচালনা থেকে নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। যোগ দেন বিশ্ব মেরিটাইম সেক্টরের সর্বোচ্চ ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (আইএমও)। সেখানে দায়িত্ব পালন করেন টেকনিক্যাল ম্যানেজার হিসেবে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। ছুঁতে থাকেন একের পর স্বপ্ন। খ্যাতি ছড়ান বিশ্ব জুড়ে। গড়তে থাকেন বাংলাদেশি মেরিনারদের জন্য অনুকরণীয় সব দৃষ্টান্ত।

ক্যাপ্টেন গোলাম হোসেন বলছিলেন, ‘চার্টার্ড মাস্টার মেরিনার মর্যাদা অর্জন নটিক্যাল পেশার সর্বোচ্চ শিখর। এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি সম্মানিত। মাইলফলকটি শুধু আমার একার অর্জন নয়। সেসব মেন্টর, সহকর্মী, ক্রু সদস্য, পরিবার, যারা সমুদ্রে ও তীরে— আমার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার জুড়ে সমর্থন জুগিয়েছেন। মেরিটাইম খাতের উৎকর্ষ কখনোই একক কোনো চেষ্টা নয়; এটি যৌথ উৎসর্গ, দলগত কাজ এবং নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের ফসল।’

মেরিন পেশার সবচেয়ে সম্মানজনক স্বীকৃতিগুলোর একটি এই চার্টার্ড মাস্টার মেরিনার (CMMar)। যুক্তরাজ্যের ‘অনারেবল কোম্পানি অব মাস্টার মেরিনার্স’ বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ মেরিনারের কাছে এক স্বপ্নছোঁয়া আকাশের নাম। কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি বছর মাত্র পাঁচ-ছয়জনকে দেওয়া হয় এই সম্মাননা। যাকে বলা হয় মাস্টার মেরিনারদের পেশাগত উৎকর্ষের ‘স্বর্ণমান’। বাংলাদেশি হিসেবে এই গৌরবজনক সম্মাননা অর্জন করেন গোলাম হোসেন। এ বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের লিভারপুলের ঐতিহাসিক টাউনহলে জমকালো এক অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ এই সম্মাননা।

এই সম্মাননার আগে ২০২০ সালে নিজেকে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সেক্টরে যোগ্য প্রমাণ করেন গোলাম হোসেন। প্রাপ্তি হিসেবে যোগ দেন বাহামাস মেরিটাইম অথরিটির ডেপুটি ডিরেক্টর (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স) পদে। একজন বাংলাদেশি মেরিনারের এমন অনন্য অর্জন গৌরবের। সাধারণত সমুদ্রগামী জাহাজ নিবন্ধনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে বিদেশিদের রাখা হয় না। গোলাম হোসেন নিজের যোগ্যতা দিয়ে সেই পদে নিয়োগের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেন।

বাহামাস হচ্ছে বিশ্বের শিপ রেজিস্ট্রির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ। ক্রুজ বা যাত্রীবাহী শিপ রেজিস্ট্রিতে দেশটি বিশ্বসেরা অর্থাৎ ১ নম্বরে। বিশ্বখ্যাত সেই প্রতিষ্ঠানের হয়ে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন গোলাম হোসেন। একজন বাংলাদেশি নাগরিক জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থায় গিয়ে বৈশ্বিক নৌ-নিয়মনীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখা নিছক একটি চাকরির গল্প নয়— এটি ধৈর্য, শিক্ষা আর দূরদর্শী পরিকল্পনার আখ্যান।

বাল্ক কমোডিটি ট্রেডিং, শিপিং, চার্টারিং এবং শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে পরিচয় দেন এক অনন্য বাণিজ্যিক দক্ষতার। যে দক্ষতার সূত্রপাত হয় যখন তিনি ১৯৯১ সালে জেনারেল কাউন্সিল অব ব্রিটিশ শিপিং থেকে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্টে সর্বোচ্চ মার্ক অর্জন করেন। পরে লন্ডনের রাজপরিবার থেকে অর্জন করেন ‘প্রিন্সেস রয়েল’ সম্মাননা।

গোলাম হোসেন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রথম দিককার শিক্ষার্থী। ১১তম ব্যাচের। প্রথম দিকের গোল্ড মেডেলিস্টের অনন্য অর্জন তার। অসাধারণ মেধা ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক’। এই প্রাপ্তিই ভিত গড়ে দেয় তার মেরিন সেক্টরে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার।

জাহাজ চালানোর সাহসিকতার অভিজ্ঞতা নিয়েই থেমে থাকেননি ক্যাপ্টেন গোলাম হোসেন। ১৯৮৯ সালে যোগ দেন নটিক্যাল ইনস্টিটিউটে। দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট হলো, ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত সামুদ্রিক খাতের নেভিগেটর ও মেরিন পেশাজীবীদের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পেশাদার সংস্থা। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের পরামর্শক মর্যাদা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে শিপিং নিরাপত্তা, দক্ষতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধিতে কাজ করে এ সংস্থা।

সেই নটিক্যাল ইনস্টিটিউট ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করে হন সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশি মেরিনারদের আন্তর্জাতিক পেশাজীবীর মর্যাদায় নিতে কাজ শুরু করেন ক্যাপ্টেন গোলাম হোসেন। এটি প্রমাণ করে বৈশ্বিক মেরিটাইম নেতৃত্বে পৌঁছানোর পথ শুধু জাহাজের ব্রিজে দাঁড়িয়ে তৈরি হয় না— পেশাদার সংগঠনে সময় দেওয়া, নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাপ্টেন গোলাম হোসেনের পরামর্শ, ‘যেসব ক্যাডেট জাহাজে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন, আমি তাদের ধৈর্য ধারণ করার, সহনশীল হওয়ার এবং এই অপেক্ষার সময়টিকে শেখার কাজে লাগানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সময় আপনাদেরও আসবে।’

এক ছেলে ও এক মেয়ের সৌভাগ্যবান বাবা গোলাম হোসেন। স্ত্রী ফাহমিদা হোসেন লন্ডনে করেন অ্যানটিকস ফার্নিচারের ব্যবসা। ছেলে মাহরিয়ার ফাহাদ হোসেন চীনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল আইবি স্কুলের অধ্যাপক। মেয়ে সামানজা মারিয়াম হোসেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে মেতে রয়েছেন সুরের জগৎ নিয়ে। পড়ছেন বিশ্বখ্যাত লন্ডনের রয়েল একাডেমি অব মিউজিকে।

জাহাজবিশ্বমঞ্চক্যাপ্টেনগোলাম হোসেনসমুদ্রপথমেরিটাইম
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন: