দুই শিশুর পেটের মধ্যে ছিল সাড়ে ৬ হাজার পিস ইয়াবা, ধরল র্যাব

ছবি: র্যাবের সৌজন্যে
দুই শিশু। একজনের বয়স ১২, আরেকজনের ৯ বছর। নেমেছিল ইয়াবা পাচারে। তবে র্যাব তাদের আটক করেছে। দুজনের পেটের ভেতর পাওয়া যায় সাড়ে ৬ হাজার ইয়াবা। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুদের ব্যবহার করে বিপজ্জনকভাবে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের হোতা এক নারীকে। ইয়াবা গিলে অসুস্থ হয়ে পড়া দুই শিশু এখন র্যাবের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-চট্টগ্রামের কোম্পানি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কমান্ডার মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাটে বাঁশখালী-আনোয়ারা-চট্টগ্রাম সড়কে একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে দুই শিশু ও শারমিন আক্তারকে (৪০) আটক করে। দুই শিশু পেটের ভেতর ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে। রাতেই তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক্স-রে প্রতিবেদনে পেটের ভেতর ইয়াবার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
এরপর চিকিৎসকরা বিশেষ প্রক্রিয়ায় ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা বের করেন। ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেটে স্কচটেপে ৬৭টি পোটলা ও ৯ বছরের শিশুটির পেটে ৬৬টি পোটলা ছিল। তাদের বাড়ি বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায়। আর শারমিনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়।
র্যাব কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কমান্ডার মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম বললেন, ‘কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র শিশুদের ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করছে। জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন জানিয়েছেন, ইয়াবা বহনের বিনিময়ে প্রত্যেক শিশুকে ৪ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অথবা তার পরিবারের মাসিক বাজার খরচ দেওয়া হয়। উখিয়ার কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে সেখানেই শিশুদের সেগুলো গেলানো হয়। পরে চট্টগ্রাম শহরে বা জেলার সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে সেগুলো বের করে বিক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।’
পেটের ভেতর ইয়াবা বহন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তাওহিদুল বললেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোনোভাবে পেটের ভেতর পোটলাগুলো ছিঁড়ে গেলে শিশুদের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতো। কোনো ধরনের লক্ষণ ছাড়াই মৃত্যু হওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা ছিল।’
তিনজনের বিরুদ্ধে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।





