বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামীকাল বুধবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে আদালত নির্দেশনাও দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পাঁচ দিন পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর নতুন নজির তৈরি হলো চট্টগ্রামে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে। কারাগার থেকে আসামি মনির হোসেনকে এনে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বলে জানালেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ, ‘আদালত আসামি এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনেছেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। আগামীকাল মামলার বাদীসহ মোট ৯ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপনের জন্য বলেছেন।’
আসামি মনিরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। স্পর্শকাতর মামলাটিতে আসামির পক্ষে লড়তে কেউ সম্মত না হওয়ায় রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে বলে জানালেন পিপি মাহমুদ।
অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর আসামি মনির হোসেন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আদালতের কাছে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে এক ঘণ্টা কার্যক্রম মূলতবি করেন।
৪ জুন মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। গত রোববার সেটি আদালতে দাখিল করা হয়। সোমবার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে একমাত্র আসামি ৩০ বছর বয়সী মনির হোসেন (৩০)। তার বাড়ি কুমিল্লায়। বসবাস চট্টগ্রামের বাকলিয়ায়।
গত ২১ মে দুপুরে নগরীর বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে এলাকাবাসী। মনির ওই এলাকার ভাই ভাই ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন। আটকের ঘটনায় ২১ মে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে বাকলিয়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। নিজেরাই বিচার করার দাবি তুলে জনতা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘাত শুরু হয়।
পরদিন ২২ মে শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওইদিন আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
মামলা করার ১৩ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পুলিশ। সরকারি কার্যদিবস হিসেবে পাঁচ দিনেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এত দ্রুত কোনো মামলার তদন্ত শেষ করার রেকর্ড চট্টগ্রামে নেই। জনদাবির মুখে স্পর্শকাতর ঘটনাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মনির শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকোরেশনের গুদামের ভেতর নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে। এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়। সর্বশেষ সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়।






