বাকলিয়ায় শিশু ‘ধর্ষণ’ : দায় স্বীকারের পর কারাগারে মনির

অভিযুক্ত মনির
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে গ্রেপ্তার মনির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
পেশায় ডেকোরেশনকর্মী মনিরকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে বাকলিয়ায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া এলাকা। পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আহত হন পুলিশ-সাংবাদিকসহ ২০ জনেরও বেশি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার নিজেরাই করবে জানিয়ে মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা নিয়ে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘আক্রান্ত শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মনিরকে দুপুরে আদালতে হাজির করি। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি মনির শিশুটিকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। তবে তার দাবি, তিনি শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেছেন।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়ার ভাষ্য, ‘প্রচলিত অর্থে ধর্ষণ হিসেবে যা বোঝানো হয়, ধর্ষণের সংজ্ঞা কিন্তু দেশে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরও ব্যাপক। আসামি মনির শিশুটির সঙ্গে যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সেটাই আইন অনুযায়ী ধর্ষণ। সুতরাং সেটাকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হালকা ভাবার সুযোগ নেই।’
তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে উপকমিশনার জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পুলিশ প্রথমে মনিরকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারে মনির সেখানকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী।
পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাসার পাশেই ডেকোরেশনের দোকানটির গুদাম। সেখানে মনির আসা-যাওয়ার কারণে শিশুটিকে চিনতেন। গতকাল দুপুরে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযোগ পান তারা।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার সকালে মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আক্রান্ত শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।




