‘আল্লাহর কাছে বিচার চাই, বান্দার কাছেও’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘আমার ছোট্ট ছেলেটা। ছোট্ট একটা পরান। কীভাবে পারল আমার ছেলেটাকে মারতে! ওর কত কষ্ট হয়েছে! আমি আল্লাহর কাছেও বিচার চাই। বান্দার কাছেও বিচার চাই। ফাঁসির চেয়ে বেশি কষ্ট পাবে এমন শাস্তি যদি থাকে, খুনিদের সেই শাস্তি দেওয়া হোক।’
চট্টগ্রামের পটিয়ায় নির্মম খুনের শিকার পাঁচ বছরের শিশু জায়হানের মা নিজ ঘরে বসে এভাবেই আহাজারি করছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রতিবেশী এক পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীর হাতে এমন নৃশংসতা বিশ্বাসই করতে পারছেন না এলাকার লোকজন।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর থেকে নিখোঁজের পর বুধবার রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ির পেছনে নর্দমা থেকে জায়হানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মোহাম্মদ জায়হান পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে।
লাশ উদ্ধারের আগে প্রতিবেশী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তার স্ত্রী শাহনূর আক্তার ও মেয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নিহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের ভাষ্য, প্রতিবেশী ফুফু নিহা শিশুটিকে খুন করেছে। বিষয়টি জানতেন তার বাবা-মাও। কিন্তু তারা সেটি গোপন করেন।
জায়হানকে খুন করে প্রতিবেশী এক পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে তাদের ফাঁসানোর কৌশল নিয়েছিল অভিযুক্তরা, ধারণা পুলিশের।
ঘরের পাশের ‘স্নেহের নিহা’ তার ছেলেকে খুন করতে পারেন, বিশ্বাস হচ্ছে না সন্তানহারা জোবাইদা বেগমেরও। বললেন, ‘ওর (নিহা) সঙ্গে তো আমাদের কোনো বিরোধ ছিল না। আমরা তাকে স্নেহ করতাম। সে কেন আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলল? সে ইচ্ছে করে মারেনি। সে কনট্রাক্ট নিয়েছিল। কারা তাকে দিয়ে আমার ছেলেকে মেরেছে, আমি জানতে চাই। আমি বিচার চাই।’
এলাকার লোকজনের ভাষ্য, নিখোঁজ জায়হানকে খুঁজতে তার বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলেন প্রতিবেশী সাইফুদ্দিনও। মঙ্গলবার বিকালে শাহজাহানের সঙ্গে বসে চা-ও খেয়েছিলেন। এজন্য সাইফুদ্দিন ও তার স্ত্রী-মেয়েকে আটকের পরও কারও বিশ্বাস হচ্ছিল না।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম জানালেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে জায়হানের সঙ্গে উঠানে ফুটবল খেলছিল নিহা। সেসময় শিশুটিকে সবার অগোচরে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাসায় পাওয়া একটি চিরকুটের সূত্রে গতকাল (বুধবার) আমরা নিহা ও তার বাবা-মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে নিহা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।’
‘নিহার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা বাড়ির পেছনে নর্দমা থেকে জায়হানের লাশ উদ্ধার করি। নিহা জানায়, বাসায় নিয়ে যাবার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই জায়হানকে মাথায় আঘাত করে খুন করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে দুটি বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে নর্দমায় ফেলে ঢেকে রাখা হয়।’
জায়হানকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকালে তাদের ঘরে বিছানার ওপর একটি চিরকুট পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তার বাবা শাহজাহানকে ছেলেকে ফেরত পেতে হলে তিন লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয়। অন্যথায় ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
চিরকুটের লেখার সঙ্গে নিহার হাতের লেখার মিলের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে বলে এসপি জানালেন।
জায়হানের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে এলাকার লোকজন পটিয়া থানার সামনে এবং ডাকবাংলোর মোড়ে বিক্ষোভ করেন।




