গভীর রাতে চবিতে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি মিছিল

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গভীর রাতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গতকাল রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথমে ছাত্রদল তাদের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করে।
মিছিলে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যার মধ্যে ছিল ‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’।
প্রায় আধঘণ্টা পর একই স্থান থেকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। এ সময় তারা স্লোগান দেয় ‘গুপ্ত বলিস কাদেরকে, তুই ছিলি লন্ডনে’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’।
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ূম জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিরো পয়েন্ট থেকে ছাত্রদলের মিছিল শুরু হয়। এটি শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে পুনরায় জিরো পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পরে প্রায় ৩০ মিনিট পর একই স্থান থেকে ছাত্রশিবিরের মিছিল বের হয় এবং একই রুটে ঘুরে জিরো পয়েন্টে এসে সমাবেশ শেষ করে।
মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
ছাত্রদল নেতারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে এদের ভূমিকা ছিল গণহত্যাকারীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা। তারা আজও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা সহাবস্থানে বিশ্বাস করি, তবে কোনো অপরাধী বা ধর্ষকের সঙ্গে আপস করব না।’
অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির। সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করা দুঃখজনক। এমন মন্তব্য কোনো দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।’


