ইসরায়েলে মরদেহ বিক্রি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের
- সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য কাটাছেঁড়া করা হয় মরদেহ
- যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিতর্ক পরিবারের ক্ষোভ

আল-জাজিরার শিক্ষানবিশ সাংবাদিক দল- (বাঁ থেকে) জেনিফার নেহরার, রিও, জ্যাকসন মিলস ও সাশা রিউ। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে দান করা ৮৯টি মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। এমনকি এর মধ্যে কিছু মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের হাতেও পৌঁছেছে। এ অভিযোগ সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অনেক দাতার পরিবার। আলজাজিরা।
ফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং আরও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মরদেহগুলো নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন ইসরায়েলি চিকিৎসকরাও।
এ তথ্য জানার পর মরিয়মের মনে প্রশ্ন জাগে, তার প্রয়াত মায়ের মরদেহও কি একইভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল? ২০২১ সালে মারা যাওয়ার আগে তার মা জ্যানেট ভলপিন নিজের দেহ চিকিৎসা শিক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছিলেন।
শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে অন্তত ৮৯টি মরদেহ একটি যৌথ প্রশিক্ষণ প্রকল্পে সরবরাহ করেছে ইউএসসি। সংশ্লিষ্ট নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও ইসরায়েলি চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া গেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তৈরির প্রশিক্ষণ: ২০২০ সালে একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিবরণ পাওয়া যায়। যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুতর আঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল কৃত্রিমভাবে। প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত মরদেহগুলো বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে সেগুলো প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে জীবন্ত মানুষের মতো।
এজন্য মরদেহে কৃত্রিম তরল সঞ্চালন করা হয় এবং গুলিবিদ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণে আহত হওয়া কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো পরিস্থিতি করা হয় অনুকরণ। প্রশিক্ষণার্থীরা এ অবস্থায় জরুরি অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতির অনুশীলন করেন।
মরদেহের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন: অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু ইউএসসি নয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মরদেহ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ সালের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে শতাধিক মরদেহ পাঠানো হয়েছিল ইউএসসিতে।
তবে সামরিক প্রশিক্ষণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ই। তাদের বক্তব্য, এটি চিকিৎসা ও শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সামরিক কার্যক্রম নয়।
সম্মতির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দাতাদের সম্মতি নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেহদান-সংক্রান্ত নথিতে কোথাও উল্লেখ ছিল না, মরদেহ বিদেশি সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। সমালোচকদের মতে, দাতারা যদি আগে থেকেই এমন ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতেন, তাহলে অনেকেই হয়তো নিতেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত।
ইউএসসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মোহাম্মদ রাদ বলেছেন, বিষয়টি শুধু মরদেহ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না— সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো: অনেক পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের স্বজনরা মানবকল্যাণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে করেছিলেন দেহদান। কিন্তু সামরিক সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচিতে সেই দেহ ব্যবহার করা হবে— এমন ধারণা ছিল না তাদের।




