ট্রাম্পের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলেনস্কি

ছবি: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ও সংলাপ জোরদার করতে হবে ইউক্রেনকে। একই সঙ্গে রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের টেলিভিশন চ্যানেল টিএসএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের কৌশল ঠিক করতে হবে কিয়েভকে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউক্রেনকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যে দ্বিদলীয় সমর্থন পাচ্ছি, তা ধরে রাখতে হবে। ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন বুঝে সঠিক উপায়ে সংলাপ এগিয়ে নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ আমাদের রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দুই নেতার বৈঠকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল জেলেনস্কির বিরুদ্ধে।
জেলেনস্কি বলেন, নতুন সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত ১৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করছে কিয়েভ। তার দাবি, ওয়াশিংটন এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তা দেয়নি।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে জোর
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ সাড়ে চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার মুখে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এখন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে উঠবে। ইউরোপের দেশগুলো, ইউরোপের বাইরের কয়েকটি দেশ এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটিই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের কাছে আনুমানিক ২১০ কোটি ডলারে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ২০৩০-এর দশকের শুরুর আগে সরবরাহ করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনায় সক্ষম পর্যাপ্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিশ্চিত করার চেষ্টাও করছেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি খাত আবারও কঠিন শীতের মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজধানী কিয়েভের পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জেলেনস্কি জানান, চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। আলোচনায় কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব আলোচনাকে ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে





