রক্তাক্ত মণিপুরে ফের জাতিগত সহিংসতা
- ৪ নাগা নাগরিককে গুলি করে হত্যা, জ্বলল একাধিক গ্রাম

রক্তাক্ত মণিপুরে ফের হিংসার আগুন। মিয়ানমার সীমান্তের কাছে কামজং জেলার পিলং গ্রামে সশস্ত্র হামলায় চার টাঙ্গখুল নাগা গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। প্রতিবাদে টাঙ্গখুল নাগালং ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যেই মণিপুরের অধিকাংশ এলাকায় আরও ছয় মাসের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর এএফএসপিএ (আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই আইনবলে কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলে আসাম রাইফেলসের গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও গুলি চালানোর দায়মুক্ত ক্ষমতা বলবৎ থাকে। ইন্ডিয়া টুডে, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি।
হামলায় নিহত চারজন হলেন ফামি জাজো (৪৩), নিংথেম কাশাক (৩৫), বেটারসন জাজো (৫০) এবং ভারেশিম জাজো (৬৭)। তারা সবাই টাঙ্গখুল নাগা সম্প্রদায়ের। পিলং গ্রামটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সশস্ত্র ব্যক্তিরা এলাকায় ঢুকে পাঁচ গ্রামবাসীর একটি দলের ওপর হামলা চালায়। হামলার মধ্যে একজন কোনোভাবে পালিয়ে গিয়ে বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ও আসাম রাইফেলসের সদস্যরা এলাকায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। পরে সেখান থেকেই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো কামজং জেলা সদরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নাগা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মিয়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বর্মা এবং অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এ হামলার পেছনে রয়েছে। পুলিশ অবশ্য এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চার গ্রামবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়ে। প্রতিবাদে টাঙ্গখুল নাগালং ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধের ডাক দিয়েছে। চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ, দমকল এবং শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত বন্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই কেমচাঁদ সিং ঘটনায় শোক প্রকাশ করে চার নাগরিকের হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, এ ধরনের হিংসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বিধায়ক এল কেইশিং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে টাঙ্গখুল নাগা যুব সংগঠন খানুইথট-খোন মুখ্যমন্ত্রীর ২৮ সেপ্টেম্বর উখরুল সফর নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নাগা অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপের জন্য জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।
কামজংয়ের এই হামলার মধ্যেই মণিপুরে আফস্পার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে নতুন মেয়াদ। তবে ১৩টি নির্দিষ্ট থানার আওতাধীন এলাকা এ ঘোষণার বাইরে রাখা হয়েছে।
আফস্পার ৩ নম্বর ধারায় কোনো এলাকাকে ‘অশান্ত এলাকা’ ঘোষণা করা যায়, যদি সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে। ২০২৩ সালে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এএফএসপিএর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।



