বিয়ের পরই সস্ত্রীক হেলিকপ্টার যাত্রা, বিধ্বস্ত হয়ে নিহত পাইলট বর

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী ডেল্টা এয়ার লাইন্সের পাইলট ডেভ ফিজি নববধূকে নিয়ে হানিমুনে যাচ্ছিলেন। তাদের বহনকারী রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারটি ডসনভিলের বিয়ের ভেন্যুর কাছে বিধ্বস্ত হয় বলে জানানো হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
অ্যাটলান্টা নিউজ ফার্স্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারের পাইলটও দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তার নাম প্রকাশ করেনি।
পেশায় নার্স ডেভ ফিজির স্ত্রী জেসনি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন এবং আটলান্টার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ডেভের বাবা জর্জ ফিজি অ্যাটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে বললেন, ‘আমার ছেলে খুবই খুশি ছিল।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভ শুক্রবার জেসনিকে বিয়ে করেন। প্রায় এক দশক আগে নিউ টেস্টামেন্ট চার্চে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ডসনভিলের দ্য রিভিয়ার ভেন্যুতে আয়োজিত বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৪০০ অতিথি।
বিয়ের সংবর্ধনা শেষে নবদম্পতি জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ডিকাল্ব-পিচট্রি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে ওঠেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টার ডাউনটাউনের একটি হোটেলে রাত কাটানোর আগে এটি ছিল তাদের জন্য বিশেষ বিদায়ী ভ্রমণ।
কিন্তু হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছায়নি। এটি ডসন কাউন্টির মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছে একটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়, যা বিয়ের স্থান থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না।
জর্জ ফিজি জানান, দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটি খুঁজে পেতে কর্তৃপক্ষের কিছুটা সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে আঘাত পাওয়া ডেভের স্ত্রী জেসনি প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে ছিলেন, পরে উদ্ধারকারীরা খুঁজে পান তাকে।
জর্জ ফিজি বললেন, ‘সে বলেছে, জ্ঞান ফেরার পর দেখেছে আমার ছেলে ডেভ তার বুকে মাথা রেখে পড়ে আছে। তার শরীরে রক্ত দেখেছিল এবং তখন শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। সে একজন নার্স, তাই বুঝতে পেরেছিল ডেভ আর বেঁচে নেই।’
তিনি আরও বললেন, ‘সে ভেঙে পড়েছে, তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।’
ডেভের বাবা জানান, উড্ডয়নের আগে আবহাওয়া নিয়ে তার ছেলের উদ্বেগ ছিল।
তিনি বললেন, ‘আমার ছেলে নিজেও পাইলট ছিল। সে পাইলটকে বলেছিল, দৃশ্যমানতা শূন্য, আর এমন পরিস্থিতিতে আমরা কখনো উড়ি না।’
তবে রবিনসন আর৬৬-এর পাইলট নাকি তাকে জানিয়েছিলেন, তারা আরও উঁচু দিয়ে উড়বেন।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো নির্ধারণ করা যায়নি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ।




