ফ্রান্সের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাতিসংঘ বৈঠক থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স
মানবাধিকার ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভোট আসলে নির্যাতনকারী দেশগুলোর পক্ষে রায়ের সঙ্গে তুলনা করে ফ্রান্সের মন্তব্যের প্রতিবাদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।
শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে ভোট দিয়ে বিরোধিতা করার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়।
ভোটের পর জেনেভায় ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা ছিল। এখন আর তা নেই।’
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এমন একজনকে সমর্থনের অভিযোগ করেছেন, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ‘জ্ঞান দিচ্ছেন’, অথচ ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর নিপীড়কদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা’ রাখছেন।
তুর্ক ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।
রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ফ্রান্সের বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়।
জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ড্যান নেগ্রিয়া বলেছেন, ফ্রান্স ‘অহংকারী ও অসম্মানজনক বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।
তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে ভোটে ১৪৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই বিরোধ ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ওয়াশিংটন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং জাতিসংঘের কয়েক ডজন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম থেকে সরে গেছে।
শুক্রবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস তুর্কের পুনর্নিয়োগের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘প্রক্রিয়াগত ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ, গোপন সমঝোতা এবং জাতিসংঘের পদগুলোর অপব্যবহার সহ্য করে’ এমন সাধারণ পরিষদকে এর ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে জাতিসংঘের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন নতুন করে পর্যালোচনা করবে।’
তবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বনাফঁ শুক্রবার তুর্ককে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম মেয়াদে তুর্ক ‘কঠোরতা ও নিরপেক্ষতার’ পরিচয় দিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি




