মিশিগানে ভোটের আগে আল-সাইয়েদের প্রতিপক্ষের পাশে ডেমোক্র্যাট নেত্রী

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং কংগ্রেসওমেন হ্যালি স্টিভেন্স। ছবি / রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। এতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের নির্বাচনী লড়াই এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দলের সম্ভাবনা নতুন করে চাপে পড়েছে।
রবিবার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থনের ঘোষণা দেন স্টিভেন্স। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে আবদুলের কাছে এক শতাংশের কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন তিনি। ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১৫ হাজার। এরপর আবদুলকে সমর্থনও জানিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে অবস্থান বদলান তিনি।
এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘গর্বিত ডেমোক্র্যাট’ বলে পরিচয় দিয়েছেন স্টিভেন্স। তবে তার এ সিদ্ধান্তের পর মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ওয়েবসাইট থেকে তার নাম ও ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের সভাপতি কার্টিস হার্টেল বলেছেন, স্টিভেন্স ‘বর্তমানে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য নন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না’।
ইসরায়েল ইস্যুতে বিরোধ থেকেই দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবদুলের একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হলে স্টিভেন্স সেটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন। তিনি আবদুলের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাল্টা আবদুল অভিযোগ করেন, ইসরায়েলপন্থী সংগঠন এআইপিএসির সমর্থনে স্টিভেন্সের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স বলেছেন, স্টিভেন্সের সমর্থন পেয়ে তিনি গর্বিত। আরও অনেক ডেমোক্র্যাট তার সঙ্গে যোগ দেবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জেমস ই. ক্লাইবার্ন। তিনি বলেছেন, ‘আমি হতাশ, তবে আমি বিষয়টি বুঝতে পারছি।’ ক্লাইবার্ন আরও বলেছেন, ‘কেন তিনি এমনটা করলেন তা জানি না। আমার কাছে এটি বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হয় না, তবে তার নিজস্ব কারণ নিশ্চয়ই আছে।
জরিপে আবদুল এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি জরিপে রজার্সের এগিয়ে থাকার তথ্য এসেছে। সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের চারটি আসনে জিততে হবে। ফলে মিশিগানের আসনটি হারালে তাদের সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।




