মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে সুদের হার বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। ছবি: সংগৃহীত
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তি উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। বুধবার সংস্থাটি বেঞ্চমার্ক সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের এ সিদ্ধান্তের ফলে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে। এতে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও অন্যান্য ঋণের সুদ বাড়তে পারে। ফলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সঞ্চয়কারীরা তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।
ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি এখনো তাদের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবে বাড়ানো হয়েছে সুদের হার। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্তে ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। সংস্থাটির অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই এ বছর আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন।
চলমান ইরানকেন্দ্রিক সংঘাত ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। বছরের শুরু থেকে তেলের দাম ৭৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রলের দামও ৪৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর আগে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে সুদের হার বাড়ানোর নতুন চক্রের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তবে ভবিষ্যতে আরও হার বাড়ানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ, জ্বালানির দাম, কর্মসংস্থান এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও এমএসএনবিসি




