মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের ‘প্রমাণ’ দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপের দাবি অনেক আগে থেকেই করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সেই দাবি প্রমাণে কিছু নথি অবমুক্ত করেছেন তিনি।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন কোনো প্রভাব ফেলেছে—এমন প্রমাণ না পাওয়ার কথা আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে। তা সত্বেও ট্রাম্প আবারও নির্বাচন নিরাপত্তা নিয়ে তার পুরনো অভিযোগ সামনে আনলেন।
প্রায় ২৫ মিনিটের প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন নিরাপত্তাকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই রয়েছে ওই নির্বাচনে।
ভাষণে ট্রাম্প কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের ভোটার পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করার বিল পাসের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিনের বিভিন্ন মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিরল বলে উল্লেখ করা হলেও ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতার কারণে বিলটি সিনেটে আটকে আছে।
ট্রাম্প বলেছেন, অবমুক্ত করা নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অবকাঠামোর ‘চমকে দেওয়ার মতো দুর্বলতা’ প্রকাশ করবে।
তবে নথিগুলোর অনেকগুলোই তার দাবির বিপরীত তথ্য তুলে ধরে। আবার কিছু নথির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অবকাঠামোর কোনো সম্পর্কই নেই।
ইরান যুদ্ধ এবং উচ্চ জ্বালানির দামের কারণে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই ভাষণ দেন। ভাষণের শুরুতে তিনি সংক্ষেপে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘বড় ধরনের জয়’ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর কর কমানো এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযানসহ নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে নির্বাচন নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এমন গোপন তথ্য প্রকাশ করছেন, যা থেকে দেখা যায় চীন অবৈধভাবে ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য রয়েছে এসব তথ্যে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মাত্রা গোপন করেছেন।
তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি অশ্রেণিবদ্ধ মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো বিদেশি পক্ষ ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা বা ফলাফলের মতো কোনো কারিগরি অংশ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে বা সফল হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই মূল্যায়ন পরিচালিত হয়েছিল ট্রাম্পের তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এবং বর্তমান সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের নেতৃত্বে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অন্তত ২০০৮ সাল থেকে চীন মার্কিন ভোটার, জনমত, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সম্ভবত নির্বাচনের ফলাফল আগাম অনুমান করাই ছিল সেই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, চীন যে ভোটার তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা গোপনীয় ছিল না।
রাজনৈতিক পরামর্শকরা নিয়মিত এসব ভোটার তালিকা কিনে থাকেন। এ ছাড়া এসব তথ্য পরিবর্তন করারও সুযোগ ছিল না।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পের ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, চীনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
চীনকে নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। গত বছরের ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ভাষণের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে ভাষণের আগে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলছিলেন, ‘চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।’




