ভোটাধিকার বাঁচাতে জাতিসংঘকে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার- ট্রাম্পের দেনা এখনো ১.৩১২ বিলিয়ন

জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া হিসেবে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার জমা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে হঠাৎ বড় অঙ্কের বকেয়া পরিশোধ করল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া হিসেবে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার জমা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য এর আগে দেওয়া হয়েছে আরও ১.৩১২ বিলিয়ন ডলার।
একসঙ্গে ৮২৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রদানে আপাতত কেটে গেল সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকি। কিন্তু ওয়াশিংটনের দেনার খাতা এখনো বন্ধ হয়নি। নিয়মিত বাজেটেই আরও ১ দশমিক ৩১২ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বুধবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিয়মিত বাজেটের জন্য ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। এর আগে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য আরও ১০২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘ সনদের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্রের বকেয়া নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন অর্থ পরিশোধের ফলে ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা আপাতত কেটে গেছে।
তবে অর্থ পরিশোধের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের বাকি বিপুল বকেয়া কবে মিটবে?
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের ব্যয়, কাঠামো এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মার্কিন করদাতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা পুনর্মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় মার্কিন অর্থায়ন কমানো কিংবা বন্ধ করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
এবারের অর্থ পরিশোধের সময়টিও নজর কেড়েছে। নিউইয়র্কে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন। বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন, তখনই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র বকেয়ার বড় একটি অংশ পরিশোধ করল।
অন্যদিকে জাতিসংঘের আর্থিক হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থদাতা চীন চলতি মাসে নিয়মিত বাজেটের জন্য ৬৪১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া নিয়ে চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়াশিংটন সংস্থাটির সবচেয়ে বড় আর্থিক অবদানকারী। ফলে মার্কিন অর্থপ্রদানে বিলম্ব হলে জাতিসংঘের নগদ অর্থপ্রবাহ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে।
৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের ফলে আপাতত ভোটাধিকার রক্ষা পেল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাকি রয়ে গেল ১ দশমিক ৩১২ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত বাজেটের বকেয়া। অর্থাৎ সংকট পুরোপুরি কাটেনি, শুধু আপাতত সামাল দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের দরজায় বকেয়ার বড় অঙ্ক রেখে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। ভোটাধিকার নিয়ে তাৎক্ষণিক শঙ্কা কেটেছে, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এখনো শেষ হয়নি।
ভোটাধিকার রক্ষা পেল, কিন্তু দেনার খাতা বন্ধ হলো না—জাতিসংঘের কাছে ট্রাম্পের বাকি ১.৩১২ বিলিয়ন ডলার।
সূত্র: রয়টার্স, জাতিসংঘের তথ্য



